যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে ফিফা বিশ্বকাপ গড়াতে বাকি ২৫ দিন। মার্কিন এবং ইসরায়েলি হামলার জেরে বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত ছিল ইরানের। তবে তারা নিজেদের প্রস্তুত করে রেখেছে বিশ্বকাপের জন্য। এবার ফিফা জানিয়েছে, ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সাথে তারা ইতিবাচক ও গঠনমূলক বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করেছে, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইরান দলের অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোন সংশয় নেই।
বিশ্বকাপের আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ক্যাম্প গেড়েছে ইরান। এমন সময়ে গণমাধ্যমে ফিফা মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানালেন, তিনি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজের সাথে চমৎকার ও গঠনমূলক বৈঠক করেছেন। গ্রাফস্ট্রম আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সমস্ত বাধা অতিক্রম করে ইরান এ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। আমরা ঘনিষ্ঠভাবে একসাথে কাজ করছি এবং ফিফা বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের সামরিক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দুদেশের মধ্যে সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়।
সংকট শুধু সামরিকক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। চলতি মাসের শুরুতে ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগদানের জন্য ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজকে কানাডীয় কর্তৃপক্ষ ভিসা দেয়নি। পরে তিনি আর কংগ্রেসে অংশ নেননি।
বুধবার তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে ফিফা বিশ্বকাপ স্কোয়াডের জন্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। হাজারো ভক্ত-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চ থেকে খেলোয়াড়রা দেশাত্মবোধক বক্তব্য দেন। সমর্থকরা উল্লাসধ্বনিতে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে ইরানের ২০২৬ বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করা হয়। দেশটি বিশ্বকাপের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়েছে তুরস্কে। মূলত সেখানে যাওয়ার আগে এই বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান খেলবে গ্রুপ ‘জি’তে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশর। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে।




