সব বাধা কাটিয়ে এখনো বেঁচে আছে খুব বিরল দুই মাথার একটি গেকো। সব প্রতিকূলতা পার করে ছানাটির বয়স চার সপ্তাহ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার ‘রকস্টার গেকোস’ নামের একটি প্রজননকেন্দ্রে ডিম ফুটে গেকোটির জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠানটি এর নাম রেখেছেন ‘সাইমন ও গারফাঙ্কেল’।
প্রতিষ্ঠানের প্রজননকারীরা জানান, গত ২৯ জুন ডিম ফুটে বের হওয়ার আগপর্যন্ত বাইরে থেকে ডিমটিকে একদম স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো প্রাণীর একের বেশি মাথা থাকলে তাকে ‘পলিসেফালি’ বলে। আর নির্দিষ্ট করে দুটি মাথা থাকলে বলা হয় ‘বাইসেফালি’ বা ‘ডাইসেফালি’।
সাধারণত দুই মাথার প্রাণীরা বেশি দিন বাঁচে না। তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেল এখন বেশ সুস্থ আছে। মূলত ডিম ফুটে বের হওয়ার সময় যদি বাচ্চাটি ভেতর থেকে পুরোপুরি দুই ভাগে আলাদা হতে না পারে, তবে পলিসেফালি বা বহুমাথা অবস্থার তৈরি হয়। সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী, পাখি ও মাছের মধ্যে মাঝে মাঝে এমন ঘটনা দেখা যায়। তবে প্রকৃতিতে এমন ঘটনা একেবারেই বিরল। এসব প্রাণীর প্রতিটি মাথায় আলাদা মস্তিষ্ক থাকে, কিন্তু এরা শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও ভেতরের বেশ কিছু অঙ্গ একসঙ্গে ভাগাভাগি করে বেঁচে থাকে।
দুটি আলাদা মস্তিষ্ক থেকে আলাদা সংকেত আসার কারণে এরা বন্য পরিবেশে টিকে থাকতে পারে না এবং অল্প দিনের মধ্যেই মারা যায়। একেক মস্তিষ্ক শরীরকে একেক দিকে চালাতে চায়, যার ফলে এদের হাঁটাচলা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শত্রু প্রাণীর আক্রমণ বা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।


