
ঢাকা, ৯ জুন – বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় দেশ পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সোমবার মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই বৈঠকে দুই নেতা সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড. খলিলুর রহমানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিনি তিন দিনের সরকারি সফরে মস্কো অবস্থান করছেন।
বৈঠকে সের্গেই লাভরভ তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
লাভরভ বলেন, রাশিয়া ড. খলিলুর রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির সময় সর্বদা পাশে থাকবে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল সংলাপ বজায় রয়েছে এবং মস্কো এই সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটাতে চায়।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এনএন/ ৯ জুন ২০২৬






