রাজনীতিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়ার মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির মহাসচিব এবং বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আলোচনা সভা শুরুর আগে অতিথিরা জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক দর্শনভিত্তিক আলোকচিত্র এবং তথ্যসমৃদ্ধ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান বহুমাত্রিক। তিনি শুধু রাষ্ট্র পরিচালনাই করেননি, বরং জাতির সামনে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দর্শনও তুলে ধরেছিলেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। তাঁর নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছিল।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যদি আরও এক দশক বেঁচে থাকতেন, তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা দেশের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির চর্চার মাধ্যমে একজন রাষ্ট্রনায়ক জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছিলেন।
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্রগঠনে তাঁর ভূমিকা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান এবং গণমাধ্যমবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।



