বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: বিস্তার আছে, কার্যকারিতা নেই

বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: বিস্তার আছে, কার্যকারিতা নেই

বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে বড় সংকট হলো রাজনৈতিক প্রভাব। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই অভিযোগ তোলে যে অমুক সংস্থা সরকারপন্থী, অমুক সংস্থা বিরোধী দলের ঘনিষ্ঠ, অমুক সংস্থা বিদেশি অর্থায়নে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দেয়…ইত্যাদি। এই অভিযোগগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি অমূলক নয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূল শক্তি হলো প্রতিবেদন। কিন্তু অনেক সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয় না। যারা দেয়, তাদের প্রতিবেদনের মান প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো কাঠামো নেই। ফলে তিন দশকের পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও নির্বাচনী সংস্কারে এর প্রভাব সীমিত।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকে কার্যকর করতে হলে সংস্থার সক্ষমতা যাচাই কঠোর করতে হবে। প্রশিক্ষণকে মানসম্মত করতে হবে, রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করতে হবে, সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনে স্থায়ী সেল গঠন করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কাঠামো তৈরি করতে হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুধু পরিচয়পত্র ঝোলানো মানুষের উপস্থিতি নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে নির্বাচনী আস্থা বাড়ায় আর দুর্বলভাবে পরিচালিত হলে আস্থাহীনতা আরও গভীর করে। বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এখন সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি অর্জনই হতে পারে আস্থা পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।

  • এস এম আসাদুজ্জামান সাবেক মহাপরিচালক, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই), বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

* মতামত লেখকের নিজস্ব

Scroll to Top