
ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে প্রতিবেশী ভারত অত্যন্ত আগ্রহ ও কিছুটা উদ্বেগ নিয়ে তাকিয়ে আছে। প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে দিল্লির এমন সতর্ক দৃষ্টি সচরাচর দেখা যায় না। এর প্রধান কারণ হলো, গত প্রায় দেড় যুগের মধ্যে এই প্রথমবার বাংলাদেশের নির্বাচনে এমন কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যা ভারতের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। প্রথমত, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের কোনো উপস্থিতি থাকবে না। ঢাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করে অভ্যস্ত দিল্লির জন্য এটি একটি বড় বাস্তবতা, যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কি না এবং জামায়াতে ইসলামী সরকারে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সেদিকেও ভারত সতর্ক নজর রাখছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের সময় দিল্লির অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। যদিও এরপর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে।
তৃতীয়ত, নতুন সরকারে বা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অত্যন্ত প্রভাবশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ বছর ধরে জামায়াতকে অঘোষিতভাবে ‘রেড লাইন’ হিসেবে গণ্য করে আসা ভারত কীভাবে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে, তা এখন দেখার বিষয়। ইতোমধ্যেই দিল্লির সঙ্গে জামায়াতের এক ধরনের যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরেও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান কী হবে, সেটিই সম্ভবত দিল্লির প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ।
দিল্লির পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত কোনো আপস করবে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বিগত তিনটি নির্বাচনে ভারতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ উঠেছিল, এবার সেই পরিস্থিতি নেই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ভারতবিরোধী মনোভাব ও শেখ হাসিনার পাশাপাশি দিল্লির বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠার কারণে ভারত এবার সচেতনভাবেই নিজেদের এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখেছে। এমনকি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলেও ভারত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি।
এসএএস/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




