এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কারিশুন্দা গ্রামে সিজেপি (কারাপশন জাস্টিস পার্টি) সমর্থক আব্দুল হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের মারধরে গুরুতর আহত হন মাফিক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর থেকেই আব্দুল ও তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। গত ১৬ জুলাই তিনি দিল্লির ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির কর্মসূচি শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান করেন।
আব্দুলের অভিযোগ, দিল্লি থেকে ফিরে আসার পর স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘পাকিস্তানি’ হিসেবে চিহ্নিত করারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর আগস্টে ‘স্কুল ঠিক করো’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কারিশুন্দা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে স্কুলের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য অডিটের অনুমতি চান আব্দুল। অভিযোগ, এর পর বৃহস্পতিবার রাতে একদল ব্যক্তি তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
পরিবারের দাবি, ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের মারধরে আহত হন শেখ মহম্মদ মাফিক। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা অভিযোগ করেন, সরকারি স্কুলের অবস্থা পর্যালোচনার অনুমতি চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আব্দুলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেওয়ার পরই হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে এসএফআইয়ের সাবেক সর্বভারতীয় সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, হামলার সময় আব্দুলকেও মারধর করা হয় এবং তার গলায় শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নতুন করে এফআইআর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার আব্দুলের বাড়িতে যান সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা, এসএফআইয়ের সাবেক সর্বভারতীয় সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস ও বাম নেতা শতরূপ ঘোষসহ অন্যরা। পরে সিজেপি ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে এবং পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ বিজেপির সমর্থক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। অপরাধীরা আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃশানু রায় বলেন, পুলিশ দ্রুত দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কেন্দ্রের জুনিয়র শিক্ষামন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও ঘটনাটিকে দুষ্কৃতীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকেই দিল্লির আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু তাদের কেউ হামলার শিকার হননি।
সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ হামলাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি আব্দুল ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
মৃতের পরিবার ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের স্মরণে শেখ মহম্মদ মাফিকের নামে একটি স্কুল নির্মাণের দাবিও তুলেছে সিজেপি।
সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও অন্যান্য দাবি পূরণ না হলে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
ঘটনার প্রতিবাদে সিজেপির পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোও। এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে যারা বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, তাদের পাশে থাকবে সংগঠনটি।
এদিকে আইসা নেত্রী নেহাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন।


