তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের বিভিন্ন এলাকা।
বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এক নারী জানিয়েছেন, জীবন বাঁচাতে পারলেও পরিবারের কাছে এখন শুধু পরনের কাপড়টুকুই অবশিষ্ট আছে।
দীপিকা নামে ওই নারী জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়ির উঠানে থালা-বাসন ধুচ্ছিলেন। হঠাৎ কোনো সতর্কতা ছাড়াই ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার প্রবল স্রোত নেমে আসে।
তিনি বলেন, বাইরে থাকায় দ্রুত পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করতে পেরেছিলেন। এরপর সবাই বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন। কিন্তু এর মধ্যেই ত্রিশূলী নদীর পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ এসে তাদের বাড়ির নিচতলা পুরোপুরি ভরিয়ে দেয়।
দীপিকার ভাষায়, ‘আমরা নিজেদের বাঁচাতে পেরেছি, কিন্তু এখন আমাদের কাছে শুধু পরনের কাপড়টুকুই আছে। বাকি সবকিছু কয়েক ফুট কাদার নিচে চাপা পড়ে গেছে।’
বাড়ির উঠানে পান করার মতো এক ফোঁটা পানিও নেই বলে জানান তিনি। সেখানে থাকা পানির কলসটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এক গ্লাস পানিও নেই। দেখুন, পানির কলসটি যেখানে ছিল, এখন সেখানে শুধু কাদা।’
বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যায়, পুরো এলাকা যেন ধূসর কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। কোথাও কাদার স্তরের ভেতর থেকে মন্দিরের চূড়া দেখা যাচ্ছে, কোথাও আবার দুইতলা কোনো ভবনের অংশ। বিশাল আকারের পাথরও বন্যার স্রোতে ভেসে এসে বিভিন্ন জায়গায় জমে আছে।
দীপিকার গ্রাম বিদুর নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার কয়েকটি গ্রামের মধ্যে অন্যতম, যেগুলো ভুটে কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে, যাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
বিদুর গ্রামে কেউ প্রাণ হারিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, হঠাৎ প্রবল স্রোতে নদীর পানি ও কাদা ছুটে আসার সময় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন।
বন্যায় নেপালের বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি অস্থিতিশীল পাহাড়ি শিলাস্তরে ধস নামার কারণে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্থানটি তিব্বত-রাসুয়াগাধি সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাহাড়ি শিলাধসের কারণে তিমুরে ভুটে কোশি নদীর পানি বেড়ে যায়। একই সময়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী লেহেন্দে নদীর পানিও ফুলে ওঠে। পরে সেই পানি ভুটে কোশি হয়ে ত্রিশূলী নদীতে প্রবেশ করে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।