টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যৌথ রেকর্ড গড়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠেছে স্পেন। এমন মহাকাব্যিক ক্ষণে নিজের ভেতরের আবেগ আর চেপে রাখতে পারলেন না স্পেনের মাস্টারমাইন্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেমিফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে পা রাখার পর ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ঝরল তার ভালোলাগা ও গর্বের কথা।
আবেগঘন কণ্ঠে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘এই মুহূর্তে নিজের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। তবে আমি বুঝতে পারছি যে এটি আনন্দের মতোই কোনো অনুভূতি। খেলোয়াড়দের এমন একটি অসাধারণ দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমরা এখনো আরও উন্নতি করতে চাই। আমাদের সামনে এখনো আরও একটি ধাপ পার হওয়া বাকি রয়েছে। আমরা সেটি অর্জন করার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
ফাইনালের টিকিট কাটার পর দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ভেতরে অনেক চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানোটা আসলে একটি বিশাল দায়িত্ব। এটি একটি দারুণ সৌভাগ্য, যা কেবল বাছাই করা অল্প কিছু মানুষের ভাগ্যেই জোটে। আপনাকে প্রতিটি মুহূর্ত মন থেকে উপভোগ করতে হবে।’
এই সাফল্যের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন স্পেন কোচ। বলেছেন, ‘আজ থেকে চার বছর আগে যখন আমরা একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম… আমরা সবসময় সেই ভাবনায় অবিচল ছিলাম এবং সেটাই আজ আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে সমীহ করলেও নিজের শিষ্যদের প্রশংসা করতে ভুলেননি এই স্প্যানিয়ার্ড। বলেছেন, ‘আজ আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের সামনে ছিল বিশ্বের সেরা দল। এটাই মূল পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে। এই খেলোয়াড়রা সবকিছুরই যোগ্য। দিনের পর দিন তারা তাদের নিষ্ঠা, সংহতি, উদারতা ও প্রতিভা দেখিয়ে এসেছে। তারা কঠিন কাজকেও বড্ড সহজ করে তোলে।’
ফ্রান্সের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজের নামের পাশে লিখিয়েছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। প্রথম কোচ হিসেবে কোনো ইউরোপিয়ান দলের সঙ্গে মেজর টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ১৪ ম্যাচে অজেয় থাকার কীর্তি গড়েছেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফিফা বিশ্বকাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তার অধীনে স্পেনের ঝুলিতে রয়েছে ১৩টি জয় ও ১টি ড্র।



