এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ফেনীর পরশুরামে ইয়াবা সেবনের দায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলার পোস্ট অফিস সড়কের একটি তিনতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করার পর এ দণ্ড দেওয়া হয়।
তারা হলেন- পরশুরাম উপজেলার উত্তর বাউরখুমা এলাকার ইয়াছিন চৌধুরীর শাবলু, ফুলগাজী উপজেলার পূর্ব নিলক্ষী এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।
পরে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক ও চোরাচালান মামলার মুল হোতা ইয়াছিন চৌধুরীর শাবলুকে মাত্র ৫ দিন সাজা দিয়ে বাকিদের একমাস ও তিনমাসের সাজা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরশুরাম থানা পুলিশ বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে পোস্ট অফিস রোডের একটি বাসায় অভিযান ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে রাজনৈতিক তদবীর শুরু হলে পুলিশ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা দিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিয়ে যান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) গভীর রাতে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ইয়াসিন চৌধুরী শাবলুকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও পাঁচ দিনের কারাদণ্ড, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও এক মাসের কারাদণ্ড এবং ইব্রাহিম খলিলুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও পরশুরামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাফায়াত আখতার নূর এ দণ্ডাদেশ দেন।
স্থানীয়রা দাবি করছেন মাত্র পাঁচ দিনের সাজা পাওয়া শিবলু হচ্ছে মাদক ও চোরা চালানোর মূল হোতা ও ‘আন্ডার ওয়ার্ল্ডের শাবলু’।
গোপন এক সুত্রে জানা যায়, মুলহোতা ইয়াছিন চৌধুরী শাবলু ‘আন্ডার ওয়ার্ল্ডের শাবলু’ হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেলে বিপত্তি ঘটে। শুরু হয় রাজনৈতিক তদবীর। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় মেয়রের ঘনিষ্ঠ পিয়াস, হান্নান, সোহাগ, আরিফসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে দীর্ঘদিন মাদক ও চোরাচালান ব্যবসা করেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দ্রুত ডিগবাজি দিয়ে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে তারপর উপজেলা ছাত্রদল এক নেতার নেতৃত্বে দেদারছে চালাচ্ছে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা।
তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর থেকে শুরু হয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপ এক পর্যায়ে তড়িঘড়ি করে মোবাইল কোর্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি কৃত্রিম ও ফেইথ সাক্ষী দিয়ে শাবলুকে ইনোসেন্ট বানিয়ে আগামী শুক্রবার শাবলুর মেয়ের বিয়ে বলে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকের কাছে কান্নাকাটি করে ও ফেইথ সাক্ষিরা জোরালো সাক্ষী দেন। এরপর আদালতের রায় শাবলুর মাত্র পাঁচ দিনের জেল। অথচ তার সাথে আটক হওয়া সাইফুল ও ইব্রাহিমকে তিন মাস ও এক মাসের জেল দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল রাত থেকে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একদিকে মাদকবিরোধী পচার প্রচারণা সভা সমাবেশ ও রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তব্য, অন্যদিকে মাদক ও চোরাচালানের গডফাদার কে বাঁচিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও পরশুরামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাফায়াত আখতার নূর জানান, পুলিশ তাদের আটক করে রাতেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিয়ে আসেন। তার পর তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
শাবলু নামের একজনের মাত্র ৫ দিনের সাজার বিষয় তিনি বলেন, তার সম্পর্কে ইতিপুর্বে কোন ধারণা ছিল না। তাছাড়া তার পক্ষে গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্নজন স্বাক্ষী দিয়েছে।
এছাড়াও আগামী শুক্রবার তার মেয়ের বিয়ে বলে কান্নাকাটি করেন। এই জন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার মেয়ের বিয়ের খবর সত্য নয়।