নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) অঞ্চলে আপেল, পিচ, নেকটারিন, প্লাম, কমলা, স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরির অসংখ্য খামার রয়েছে। বিশেষ করে সিডনি, বিলপিন, কমলা ও ক্যানোল্যান্ড এলাকাগুলো ফল চাষের জন্য সুপরিচিত। ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে বিখ্যাত আপেল, চেরি, স্ট্রবেরি ও আঙুরের বাগান রয়েছে। ইয়ারা ভ্যালি বিশ্বমানের ওয়াইনারি ও ফল চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। তাসমানিয়া তার সুস্বাদু আপেল, চেরি ও বেরি ফলের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া আঙুর, কমলা, পিচ ও এপ্রিকট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। কুইন্সল্যান্ডে উৎপন্ন হয় আম, আনারস, অ্যাভোকাডো, কলা, লিচু ও ম্যাকাডেমিয়া নাট। এসব খামারের বেশির ভাগই ‘পিক ইয়োর ওন’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। দর্শনার্থীরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে তাজা ফল সংগ্রহ করতে পারেন, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটকদেরও এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেয়। সেদিন ফেরার সময় গাড়ির ডিকিতে ছিল নানা রকম ফলের ঝুড়ি, আর হৃদয়ে ছিল অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কতটা সহজ, কতটা নির্মল হতে পারে। আজও যখন বাজার থেকে কোনো আপেল কিংবা স্ট্রবেরি কিনি, তখন অজান্তেই মনে পড়ে যায় ক্যানোল্যান্ডস অর্চার্ডের সেই সকাল। গাছ থেকে নিজের হাতে ফল পেড়ে খাওয়ার যে আনন্দ, তা কোনো সুপারমার্কেটের তাক থেকে কেনা ফলে কখনো পাওয়া সম্ভব নয়। আমার বিশ্বাস, যাঁরা অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে যাবেন, তাঁরা যদি অন্তত একটি ফলের খামারে এক দিন কাটান, তবে সেই অভিজ্ঞতা তাঁদের ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের শ্রমের এমন অপূর্ব মিলন খুব কম দেশেই এত সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়।
*লেখক: মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কুয়েত