প্রথম পর্বের মাঝখানে এসে বিশ্বকাপ ফুটবল বেশ উত্তাল হতে শুরু করেছে। নতুন নতুন রেকর্ডে সুরভিত হচ্ছে ফুটবল আঙিনা। আবার নবাগত কোন কোন দলের সুপার পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ ক্রমশই আলোকিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্বকাপে মণিমুক্তোর সন্ধান সামনে আরও মিলবে, কেবল শুরু হল। তবে এই মুহূর্তে বিশেষ আলোচনায় উঠে এসেছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা দল কেপ ভার্দ। এখনও এই দেশটি অপরাজিত। মাত্র ছয় লাখ মানুষের বসিতর এই দেশটি গ্রুপপর্বে বিশ্বকাপ ফুটবলের দুই চ্যাম্পিয়ন দল স্পেন ও উরুগুয়ের সাথে ড্র করে লাইম লাইটে চলে এসেছে।
আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট দ্বীপপুঞ্জ এই দেশটি এখন ৩২-এ ওঠার খুব কাছাকাছি। স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ড্র করার পর তারা উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট অর্জন করেছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৬৩তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দে এখন গ্রুপ এইচ-এর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে জয় পেলে তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা কেউ ঠেকাতে পারবে না।
দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স আর আত্মবিশ্বাসে কেপ ভার্দের কোচ পেদ্রো লেইতাও বুবিস্তা দারুণ খুশি। কোচ হওয়ার আগে তিনি ১১ বছর নিজ দেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, ‘ফলাফলের চেয়েও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হল একটি দল হিসেবে কেপ ভার্দের বিশ্বময় পরিচয়। আমাদের শক্তি, ঐক্য এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লডাই করার মানসিকতা তুলে ধরতে পারাটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেটা আমরা করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা এখানে এসেছি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং একটি নতুন স্বপ্নপূরণের চেষ্টায়। সেই স্বপ্ন হল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারা। আমরা সেই যৌক্তিক স্বপ্নের কাছাকাছি। আমরা ভয়হীনভাবে খেলতে পারছি। শেষ ম্যাচেও আমরা ভয়হীনভাবে খেলব।’ ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস্টনে কেপ ভার্দে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে জিততে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে এক নতুন রেকর্ড গড়বে কেপ ভার্দে।
দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার মাসুদ রানা মনে করেন দুটি চ্যাস্পিয়ন দেশের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ নয়। দল দুটির নাম স্পেন ও উরুগুয়ে। মানে হল ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকা কারো কাছেই মাথা নত করেনি ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। তাদের কোনকিছুই কিন্তু সাময়িক নয়। একটি দেশ প্রথমবারে এসেই চমক জাগিয়েছে। মাসুদ রানা ৯০-এর দশকে ঢাকার মাঠের জনপ্রিয় লেফট ব্যাক। খুব অল্প বয়সে বিকেএসপি ছেড়ে সেই সময়ের আবাহনী ক্রীড়া চক্রে নাম লিখিয়ে সবার নজর কেড়েছিলেন। এরপর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন দীর্ঘদিন।
রানা বললেন, ‘কেপ ভার্দে- এই দলটির মাঝে অটুট বন্ধন এবং সম্মিলিত লড়াইটা ফুটে উঠেছে। এই কারণে উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পরও তারা থেমে থাকেনি। জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করে গোল ফিরিয়ে দিয়েছে। ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর কেপ ভার্দের কেভিন পিনার করা প্রথম গোলটি ছিল আসাধারণ। বলা হচ্ছে এই বিশ্বকাপে এতদূর দূরত্ব থেকে এটিই প্রথম গোল।’
মাসুদ রানা আরও বললেন, ‘এই দেশটি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছে। তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে বলেই বিশ্বাস। সৌদি আরবকে তারা পরাজিত করতেই মাঠে নামবে। ঐদিন তারা আরও সাহসী লড়াই করবে।’
মাসুদ রানা বরাবরই জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক। ঢাকার মাঠে যখন খেলেছেন তখনই জার্মানের খেলা তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। সেই থেকে জার্মানকেই সমর্থনে এগিয়ে রাখেন। সেটি রাখলেও তিনি মোটেও মনে করেন না এই বিশ্বকাপে জার্মানরা মহাফেভারিট। বরং আইভরি কোস্টের সাথে জার্মানদের কষ্টার্জিত জয়ে তিনি কোনভাবেই জার্মানকে চ্যাম্পিয়নের পথে এগিয়ে রাখতে নারাজ।
মাসুদ রানা বললেন, ‘কেবল প্রথম রাউন্ডের খেলা চলছে। কিছুই আগাম বলা যাবে না। নকআউট থেকেই শুরু হবে মূল উত্তেজনা। তখন অনেকছিুই পরিস্কার হবে।’
তবে এবারের বিশ্বকাপে তিনি সবচেয়ে ফেভারিট মনে করেন ফ্রান্সকে। তার ভাষায় এই দলটি সব বিবেচনায় পরিপূর্ণ দল। কৌশল, শক্তি-সামর্থ্যে অনেক অনেক এগিয়ে। দলের অন্যতম ‘ম্যাজিকম্যান’ কাইলিয়ান এমবাপেও ফর্মে রয়েছেন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকেও মাসুদ রানা খুব বেশি এগিয়ে রাখতে চান না। তার মতে, যেকোনো সময় এই দুটি দল হোঁচট খেতে পারে।



