পোশাক খাতে গভীর ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন: গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর – DesheBideshe

পোশাক খাতে গভীর ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন: গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর – DesheBideshe


পোশাক খাতে গভীর ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন: গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর – DesheBideshe

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর – দেশের পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতার পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টার কথা অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টসে যা ঘটছে তা কোনো স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়; বরং সাধারণ শ্রমিকদের জিম্মি করে ও তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোনো অমীমাংসিত দাবি-দাওয়া নেই। অথচ একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে লিপ্ত রয়েছে। এই সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশের সাধারণ শ্রমিকরা কোনোভাবেই জড়িত নন, বরং কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি এর নেপথ্যে থেকে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং ভূমিকা এই অস্থিরতার পেছনে কাজ করছে। পাশাপাশি, মাফিয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত চক্রান্ত বাস্তবায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সরকার এসব রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা কঠোর হস্তে দমনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

মজুরি বোর্ড ও নতুন কাঠামো নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ:

শ্রমিকদের প্রধান দাবি অনুযায়ী নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নাম দিতে সামান্য বিলম্ব হলেও ইতোমধ্যে সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং প্রথম সভাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গভীরভাবে বিবেচনা করে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংযম ও কড়া বার্তা:

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী চরম সংযম প্রদর্শন করছে এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত রয়েছে। অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এই সুযোগে কোনো অপরাধী চক্র, মাফিয়া বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।

সবশেষে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো প্রকার উসকানি ও গুজবে কান না দিয়ে নিজ-নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শ্রমিকরা কাজে ফিরলে একদিকে যেমন শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে, অন্যদিকে তাদের নিজস্ব কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত হবে।

এনএন/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬

Scroll to Top