পূজায় বাড়তি নিরাপত্তা-অনুদান, সরকারের প্রতি সন্তুষ্ট হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা

সাইফুল ইসলাম: দূর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা, সরকারি অনুদান ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মানিকগঞ্জের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পেরে তাঁরা স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ সময় পূজামণ্ডপে আসা ভক্ত ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের অনেকেই এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সরকারি সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে কাজ করছেন। বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় এবার পূজায় বেশি নিরাপত্তা ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। গরিব-অসহায়দের জন্য নতুন কাপড়ও পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন—কোন সরকার, কোন দল আপনাদের জন্য কাজ করে এবং আপনাদের প্রকৃত বন্ধু কোন দল। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই দল, এই দেশ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কাজ করলে আপনারা যে দেশের স্বপ্ন দেখছেন, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। যে স্বপ্ন নিয়ে আপনারা ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। ভালো কাজ করতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একা কোনো কাজ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিলেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতেও বিএনপি তাঁদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী।

পূজামণ্ডপে আসা ভক্তরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার তাঁরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে। এ সময় খাদ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিভিন্ন বয়সী নারী ও শিশুরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরিতোষ চন্দ্র হালদার বলেন, “এবার আমরা খুব আনন্দের সঙ্গে পূজা উদযাপন করেছি। কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি।”

মনোরঞ্জন দাস বলেন, “অনেক মন্দিরে ঘুরেছি। সব মন্দিরেই পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। ভালো নিরাপত্তা পেয়ে আমাদের ভালো লেগেছে।”

রিতা রাণী নামের এক নারী বলেন, “এবার খুব আনন্দ হয়েছে। আমরা খুব ভালোভাবে পূজা উদযাপন করেছি।”

ব্রাহ্মণকান্দা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন হালদার বলেন, “আমরা অনেক বছর ধরে পূজা উদযাপন করে আসছি। তবে এ বছর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল আগের চেয়ে বেশি। পুলিশ-প্রশাসন, আনসার সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বারবার আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য নরেশ চন্দ্র হালদার বলেন, এ বছর সরকার ও প্রশাসনের কাছ থেকে তাঁরা যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছেন। নিরাপদ পরিবেশে আনন্দঘনভাবে পূজা উদযাপন করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন কবীর ও মাসুদ পারভেজ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

Scroll to Top