পিয়ার মতো আর কাউকে এতটা ভালোবাসিনি : অনুপম

ভারতীয় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়। গায়িকা ও সমাজকর্মী পিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রেমের পর ২০১৫ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তিনি। কিন্তু সংসার টেকেনি। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর এক এক্স বার্তায় বিয়ে-বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন অনুপম। তখন অবশ্য বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি দুজন। তবে এই ছাড়াছাড়ি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেন নেটিজেনরাও।

তখন টালিউডে গুঞ্জন চাউর হয়, অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন পিয়া। পরকীয়া এ কারণেই ভেঙেছে অনুপমের সংসার। পরমব্রত অবশ্য সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি তাকে। জানিয়েছিলেন, তারা ভালো বন্ধু মাত্র।

করোনার সময় ভেঙে গিয়েছিল পরমব্রত ও তার বান্ধবী ইকার সম্পর্ক। এরপর থেকেই পিয়ার সঙ্গে নাম জড়াতে থাকে এই অভিনেতার। শেষমেশ গুঞ্জনকে সত্যি করে সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে বিয়ে করেছেন পরমব্রত ও পিয়া।
অন্যদিকে পিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অনুপম। বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার দেড় মাস পর ভারতীয় একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সেই আলাপচারিতায় অনুপম ব্যক্ত করেন, পিয়া তার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সাক্ষাৎকারে বিচ্ছেদের বিষয়ে অনুপম বলেছিলেন, ‘পিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি। আমার পাশে আমার বাবা-মা ও বন্ধুরা রয়েছে। কিন্তু আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ ব্যক্তিকে হারিয়ে ফেলেছি। আমার ৩৯ বছর বয়সে এরকম বড় কিছু জীবন থেকে হারাইনি। বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক মানুষ আমাকে কল করেছেন; কেউ-ই এমনটা প্রত্যাশা করেননি। অনেকে প্রশ্ন করেছেন— এটা কেন করলেন? তাদের এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না বা বাস্তবসম্মতও মনে হয়নি। কিন্তু এটি ঘটেছে এবং শেষ হয়েছে।’

অনুপম আরও বলেন, ‘জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে পারছি না। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে (২০২১) আমার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু আমার বাবা-মা পাশে ছিলেন। আমি আমার বাবা-মাকে নিয়ে গর্বিত। আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষজনও আমার পাশে ছিলেন।

আমার বন্ধুরা এখনো আমার পাশে আছে। ৩৯ বছর বয়সে বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাওয়াটা কঠিন, এটা কলেজ জীবনের কোনো বিচ্ছেদ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পিয়া আমার জীবনের ভালোবাসা ছিল। আমাদের এক দশকের সম্পর্ক ছিল; পিয়ার মতো আর কাউকে এতটা ভালোবাসিনি।’

জানা যায়, ব্যক্তিজীবনে পরমব্রত ও অনুপম ভালো বন্ধু ছিলেন। এখনো পরমব্রতর সঙ্গে যোগাযোগ হয় কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে অনুপম বলেছিলেন, ‘মনে হয় না, বিচ্ছেদের ঘোষণার পর আমাদের কথা হয়েছে। কিন্তু এখানে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। আমরা কথা বলব, যখন প্রয়োজন মনে করব।’

Scroll to Top