২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করেও হেরেছে নেদারল্যান্ডস। প্রথম দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাথলেও চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। তখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল নেদারল্যান্ডস। ঠিক তখনই ফাহিমের ক্যাচ হাতছাড়া করেন ম্যাক্স ও’ডাউড। আর ফাহিমের হাত ধরে জয় আসে পাকিস্তানের। তাই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হারটা সহজেই মেনে নিতে পারেননি ডাচ বোলার পল ফন মিকেরেন।
কলম্বোতে শনিবার টসে জিতে নেদারল্যান্ডসকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আঘা। ব্যাটে নেমে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রান করে স্কট এডওয়ার্ডসের দল। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসের ১৮.২ ওভারে ফন বিকের বলে ফাহিমের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি ম্যাক্স ও’ডাউড। পরে সেই ফাহিম আশরাফই ৩ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন। ডাচদের বিপক্ষে এই ম্যাচটি হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের শঙ্কা জেঁকে বসত পাকিস্তানের ঘাড়ে। কারণ গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি আগেই বর্জন করার কথা জানিয়েছে তারা।
এর আগে লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তানের স্কোর এক পর্যায়ে ছিল ২ উইকেটে ৯৮। সেখান থেকে ১১৫ রানে হারায় ৭ উইকেট। শেষটা হয়ে দাঁড়ায় রোমাঞ্চকর। ম্যাচটা ডাচদের দিকে ঝুঁকেও পড়েছিল। ১৮ ওভার শেষে সমীকরণ ছিল ১২ বলে ২৯ রান। ১৮.১ ওভারে ছক্কা মেরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার বার্তা দেন ফাহিম। কিন্তু পরের বলেই তাকে আউটের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ক্যাচ মিস করায় পরে ম্যাচটাও মিস হয়েছে নেদারল্যান্ডসের।
ম্যাচে শেষে তাই হতাশার কণ্ঠে ফন মিকেরেন বলেছেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, পাকিস্তান আজ খেলাটা জিততে পারেনি, আমরা নিজেদের বিপক্ষে খেলা হেরেছি। আমরা সম্ভবত যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে করতে পারিনি। আপনি জানেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে, ছোট ব্যবধানে, কখনও একটি বলও ব্যবধান গড়ে দেয়। এটি কেবল একটি হতাশাজনক অনুভূতি।’
‘আমরা আজ ভালো দল ছিলাম না, বিশেষ করে বোলিং বিভাগে। তবে আমাদের খেলাটি জেতার যোগ্যতা ছিল। আমি মনে করি পাকিস্তানকে যে জিনিসটির জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে তা হল খেলাটিকে গভীরভাবে নেয়া। আমি বলতে চাই, আমাদের সম্ভবত ব্যাটিংয়ে এটি করা উচিত ছিল। হয়তো ইনিংসটি আরও একটু গভীরে নেয়া উচিত ছিল।’
‘যার ক্রিকেটে সম্পর্কে জ্ঞান থাকে, সে সম্ভবত বুঝে যে ক্যাচটি মিস করেই হয়তো আমরা খেলাটি হেরেছি। কিন্তু হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত কাউকে তো হারতেই হবে। আমরা জিততে পারতাম। আজকের আমরা সম্ভবত পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করতে পারতাম।’



