বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ব্রাজিল ফুটবল শিবিরে চোটের অস্বস্তি ও উদ্বেগ যেন কিছুতেই কাটছে না।
দলের অন্যতম বড় তারকা নেইমার জুনিয়র তার বাম পায়ের কাফ মাসেলের গ্রেড-২ চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে তার এই চোটের বর্তমান পরিস্থিতি ও অগ্রগতির সঠিক মূল্যায়ন করতে আগামী সোমবার তার একটি এমআরআই পরীক্ষা করা হবে।
আগামী ১৩ই জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সেলেসাওদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমেই বাড়ছে।
টিওয়াইসি স্পোর্টস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোটের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ব্রাজিলীয় তারকাকে নিউ জার্সিতেই রেখে দেওয়া হচ্ছে এবং কাফ স্ট্রেইনের গভীরতা পরীক্ষা করতে সোমবার তার এমআরআই করানো হবে।

ফলে, ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন প্রীতি ম্যাচটি তিনি মিস করতে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের চোটের পরিস্থিতি নিয়ে দলের ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি মনে করি নেইমারের পরিস্থিতি এখন বেশ পরিষ্কার।
সে দারুণভাবে তার ব্যক্তিগত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। তার একটি এমআরআই করা হবে এবং এরপর যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে সে মূল দলের সাথে অনুশীলন শুরু করতে পারবে।’
সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পাওয়ার পর ইতিমধ্যে ১৯ দিন পার হয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে কোচের কণ্ঠে আশাবাদের সুর শোনা গেলেও, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মতো শক্তিশালী আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হওয়ার পর থেকে নেইমার মূলত জিমেই তার বেশিরভাগ সময় পার করেছেন এবং মাঠের সবুজ ঘাসে কেবল হালকা কিছু ব্যায়াম করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এখনো তার কাঙ্ক্ষিত ম্যাচ ফিটনেস থেকে বেশ দূরে থাকলেও, ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার থাকা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই।
এই বিষয়ে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘পরিষ্কার করে বলতে গেলে, সে (নেইমার) আমাদের সঙ্গেই থাকছে। আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে স্কোয়াডের কাউকে পরিবর্তন করা হবে না। এই ২৬ জন খেলোয়াড়ই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে এবং এই ২৬ জনই বিশ্বকাপে খেলবে।’
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, নেইমার বর্তমানে নিবিড় ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন এবং খুব শীঘ্রই তার শারীরিক পুনরুদ্ধারের গতি আরও বাড়ানো হবে। মূল লক্ষ্য হলো, টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ের মধ্যেই তাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলা, যাতে কোচ দ্রুতই তাকে মাঠে নামাতে পারেন।
পিএসজি ও বার্সেলোনার সাবেক এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে এটি হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ (এর আগে তিনি ২০১৪ সালে ব্রাজিল, ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন)।



