আর কদিন বাদেই পবিত্র নগরী মক্কা থেকে অষ্টম মুসলিম জনসংখ্যা অধুষ্যিত বাংলাদেশের ঘরে ঘরেও পালিত হবে পবিত্র ইদুল ফিতর। সেই উৎসব ঘিরে এদেশের মানুষের জনে-জনে আকুতি থাকে নিজেদের স্বজন প্রিয়জনের কাছে ফেরার আকুতি। চাকরি জীবন জীবীকার ফেরে রাজধানীতে থাকা বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিবছরে মত এবারো নিজ গ্রামে এলাকায় কিংবা জেলা উপজেলা শহরের প্রত্যন্ত গ্রামে ফিরবে। ঈদ আনন্দে গ্রামে দাদা দাদুর কাছে ফেরার তাড়নায় শিশুদের চোখে ঘুম নেই। বড়রাও উৎকন্ঠিত কবে, কখন, কিভাবে সময়মত প্রিয়জনের কাছে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবেন। তাই মনে হয়, প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ কবিতা লিখেছেন—-“এবার ফেরাও মোরে / লয়ে যাও যে হে উদার/ সংসারের জনপূর্ণ জননী / নিভৃত বিজন কুঞ্জ খেলা।”
আগামী মঙ্গলবার ১৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারী ছুটি। ঈদ যাত্রার প্রস্তুতিতে নিজ নিজ মালসামাল ও মূল্যবান জিনিস সুরক্ষিত রাখতে কতটা প্রস্তুতি নিয়েছেন সেই নিয়েই আজকের আলোচনা:
প্রথমত: প্রথমেই আসি ঈদের আনন্দ তখনই নির্মল ও সার্বজনীন হয় প্রিয় পুরানো ফেলে আসা গ্রামে গঞ্জে জেলা উপজেলা বিভাগীয় শহরের মানুষের জন্য কিছু করতে পারায়। ফরজ বা অবশ্যই করনীয় তাগিদ থেকে বিত্তবান ও সার্মথ্য রাখেন যারা তারা জাকাত, ফেতরা আর দরিদ্র পীড়িত জনমানুষেদের হক আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রামে নিজ লোকালয়ে জনমানুষদের প্রাধান্য দিতে গ্রামে প্রিয় পরিচিত গন্ডিতে ছুটে যান। যা ঈদের আনন্দ বহুগুন বাড়িয়ে তোলে। একারণেই হয়ত মানবতা প্রেম আর ভালোবাসার জীবনবোধের কবি কতাজী নজরুল ইসলাম ছন্দে ছন্দে লিখে গেছেন–“দে যাকাত/দে যাকাত/নিখিল ভুবন ছেনে/ওরে সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান।”
দ্বিতীয়ত: এই যে প্রিয় জন স্বজন-আত্মীয়দের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে যারা গ্রামে প্রত্যন্তে জেলা উপজেলায় যার যার শিকড়ের স্থলে ফিরবেন তাদেরই যাত্রাপথের প্রস্তুতির দরকার হয়। সেই সব প্রস্তুতির সাথে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি তা হলো নিরাপদে নিশ্চিত যাত্রা। ঈদ মানে আনন্দ তবে এ আনন্দের সঙ্গে থাকে ঝুঁকিও।
তাই ঈদের আগে ঘরে ফেরার নিরাপদ আনন্দময় যাত্রার জন্য অবশ্যই কিছু করনীয় নিয়েই আজকের আলোচনা। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার আমাকে জানিয়েছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তার সীমিত সম্পদ ও জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে নগরবাসীর সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। দূরপাল্লায় যাত্রী পরিবহনে মালিক শ্রমিকের জন্য হাইওয়েতে জানজট তৈরি হয় এমন কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সিট পয়েন্টে যানবাহন না থামিয়ে বাস স্টেশন ও নিদিষ্ট ‘বাস বে পয়েন্ট’ থেকে যাত্রীদের উঠানো নামানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন।
এছাড়াও ডিএমপি কিছু নির্দেশনা দিয়েছে:
১. বাসাবাড়ি ত্যাগ করার পূর্বে দরজা জানালা ঠিকমতো বন্ধ করা হয়েছে কিনা দেখে নিন।
২. বাসাবাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখুন।
৩. নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রাদি অরক্ষিত অবস্থায় রাখবেন না।
৪. বাসা ত্যাগের পূর্বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ চেক করে নিন।
৫. পাড়া-মহল্লায় কোন সন্দেহভাজন লোকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ থানায় অবহিত করুন।
৬. যেকোন সময় পুলিশি সহায়তার জন্য নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন ডিএমপি কর্র্তৃপক্ষ।
তৃতীয়ত: পর্যায়ে ব্যক্তিগত নাগরিকদের দায়িত্ব ও প্রস্তুতিগুলো খানিক স্মরণ করি। রাজধানী শহর ছেড়ে আমরা কেউ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট: বাস, ট্রেন বা লঞ্চের পথ পাড়ি দেবো। সুতরাং যাত্রা শুরু করার আগে কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে।
-রওনার আগে সেই টিকেটগুলো হাতের কাছে গুছিয়ে নিন।
-ব্যাগ এবং মূল্যবান জিনিস-ফোন, টাকা-নিরাপদে রাখুন।
-সময়মত স্টেশন বা স্ট্যান্ডে নির্দেশিকা মেনে বাস ট্রেন বা লঞ্চেঘাটে যাবেন।
-আর যারা ব্যক্তিগত পরিবহনে নিজেদের মত রওনা করতে চান তারা অবশ্য পথের গন্তব্যে দূরত্বের সাথে সময়মত পৌঁছানোর কাঙ্খিত লক্ষ্য নিয়ে পথে নামবেন। যদি ক্লান্ত লাগছে, রাত বা গভীর ঘুমের সময় যাত্রা এড়িয়ে চলুন।
-সব সময় ধৈর্য্য ধরে চলুন। তাড়াহুড়ো করবেন না।
-শিশুদের নিরাপদে রাখুন। যাত্রা পথে আর কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না। প্রয়োজনে নিজেরা ঘরে তৈরী খাবার প্রস্তুত করে সাথে নিতে পারেন।
-যাত্রী বেশি থাকলে অপেক্ষা করুন বা বিকল্প যানবাহন বেছে নিন।
মনে রাখবেন, সতর্কতা, ধৈর্য্য আর সচেতনতা এগুলোই আপনাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেবে। আসুন প্রিয়জনদের পাশে নিয়ে ঈদের আনন্দে নিজেদের নিরাপদ রাখি। ঈদের আনন্দে মুখরিত হোক আমাদের সকলের জীবন।




