আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামবে ভারত এবং জিম্বাবুয়ে। চেন্নাইতে হেরে যাওয়া দলকে বিদায় নিতে হবে থেকে আসর থেকে। এদিকে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নামার আগে দারুণ আত্মবিশ্বাসী আফ্রিকার দেশটি। বোলিংয়ের বৈচিত্র্যে দিয়ে ভারতকে নাস্তানাবোধ করতে চায় সিকান্দার রাজার দল, এমনটাই জানালেন অলরাউন্ডার রায়ান বার্ল।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার-হিটারদের কাছে পাত্তা না পেলেও, নিজেদের বোলিং আক্রমণ ভারত ম্যাচে আশাবাদ জোগাচ্ছে জিম্বাবুয়ের। রিচার্ড নাগারাভা সুস্থ হয়ে ফেরায় জিম্বাবুয়ের হাতে এখন তিনজন লম্বা পেসার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। পাশাপাশি দলে প্রায় সব ধরনের স্পিনিং অপশন রয়েছে। এখানে আছেন গ্রায়াম ক্রেমার, সিকান্দার রাজা এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের উইকেটে ভারতের বিপক্ষে নামার আগে বার্ল বলেছেন, ‘আমাদের অনেক অপশন আছে, যা জিম্বাবুয়ে একাদশের বড় সুবিধা। আমাদের বাঁহাতি এবং ডানহাতি পেসার আছে। কয়েকজন লেগস্পিনার আছে, অফস্পিনার আছে।’
‘দলে যথেষ্ট গভীরতা আছে। ম্যাচের পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ, ব্যাটারদের ধরন এবং আমরা কোন কম্বিনেশন নিতে চাই এসবের ওপর সব নির্ভর করবে।’ ভারতীয় দলে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় ওয়েলিংটন হয়তো বেঞ্চে থাকতে পারেন। তবে নতুন বলে বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মা ও ইশান কিশানের বিপক্ষে রাজার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে রিটার্ন ক্যাচ নিতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন রাজা এবং কিছু সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে ভারত ম্যাচের আগে তাকে ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বোলিং ও ব্যাটিং করেছেন।
পরিস্থিতি যাই হোক, এই বিশ্বকাপে ব্যাটারদের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন মুজারাবানি। মুজারাবানিকে নিয়ে বার্ল বলেছেন, ‘৬ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা অবশ্যই সাহায্য করে। তবে এই টুর্নামেন্টের আগে প্রায় চার থেকে ছয় মাস চোটে বাইরে থাকার পরও যেভাবে সে ফিরেছে, তার জন্য ও আরও বেশি কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। নিজের শরীর নিয়ে তার সন্দেহ ছিল। কিন্তু বল হাতে তার সাফল্য অসাধারণ।’
সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতাই জিম্বাবুয়ের এই বিশ্বকাপ সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র একটি কম টেস্ট খেলেছে এবং টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকেও হারিয়েছে।
‘নিয়মিতভাবে উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা এবং আমাদের ভালো খেলোয়াড়দের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস, এসবই কাজে এসেছে। তবে মাঠে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হয়। সবকিছু মিলিয়েই আমরা এখন তার ফল পাচ্ছি।’




