৪. আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করা
নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো ‘ইহসান’-এর অনুভূতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহসানের সংজ্ঞায় বলেছেন, এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ; আর যদি দেখতে না পাও, তবে নিশ্চিত মনে করো যে তিনি তোমাকে দেখছেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০)
ইমাম গাজালি লিখেছেন, নামাজে অন্তরের উপস্থিতি (হুজুরে কলব) অর্জনের জন্য রাজাধিরাজ আল্লাহর মহানুভবতা ও নিজের হেয়তা উপলব্ধি করা আবশ্যক; যখন বান্দা বুঝতে পারে সে কার সামনে দাঁড়িয়েছে, তখন তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনম্র হয়ে যায় (আল-গাজালি, ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, ১/২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা, ২০০২)।
৫. শয়তানের প্ররোচনা থেকে আত্মরক্ষা
নামাজে দাঁড়ালেই শয়তান মানুষকে পুরোনো বা অপ্রাসঙ্গিক কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। হাদিসে এই বিশেষ শয়তানের নাম বলা হয়েছে ‘খিনজাব’।
সাহাবি ওসমান ইবনে আবিল আস (রা.) নবীজির কাছে নামাজে মন ভোলে যাওয়ার অভিযোগ করলে তিনি পরামর্শ দেন, যখনই এরূপ অনুভবে মন বিচলিত হবে, তখন বাঁ দিকে মৃদু থুতু ফেলার মতো ইশারা করে আল্লাহর কাছে শয়তানের প্ররোচনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা বা ‘আউজুবিল্লাহ’ পড়তে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২০৩)।
সচেতনভাবে এই চিন্তা তাড়িয়ে দিয়ে পুনরায় তেলাওয়াতে মন দেওয়া উচিত।
নামাজে মনোযোগ এক দিনে অর্জিত হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়; এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উল্লিখিত বিষয়গুলো চর্চা করতে পারলে নামাজ শুধু বাহ্যিক অনুষ্ঠান থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মিক উন্নতির চূড়ান্ত মাধ্যম।

