প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, খরাপীড়িত কৃষকদের সহায়তা, পানির সংকট মোকাবিলা, জলাধার পুনরুদ্ধার ও গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করে সংগঠনটি। কৃষকদের আত্মহত্যা ও আর্থিক সংকটের মতো সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজাই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০১৬ সালে গভর্ন্যান্স নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, টেলিভিশনে এক কৃষকের আত্মহত্যার পর তাঁর পরিবারের দুর্দশার কথা দেখে তিনি সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে নিজের জমানো অর্থ থেকে সহায়তা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করার পর উপলব্ধি করেন, তাঁদের পাশে দীর্ঘদিন থাকতে হবে। সেই উপলব্ধি থেকেই আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেন।
২০১৮ সালে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে নানা বলেছিলেন, কৃষকদের শুধু অর্থ দিলেই হয় না, তাঁদের মানসিক ও সামাজিক সমর্থনও প্রয়োজন। তাঁরা যেন বুঝতে পারেন, বিপদের দিনে একা নন। এই ভাবনা থেকে নাম ফাউন্ডেশন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের মানসিক সংকট মোকাবিলায়ও কাজ শুরু করে।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত নবভারত টাইমসের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ৬৪১ জনের বেশি কৃষকের বিধবা স্ত্রী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। কারও জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, কাউকে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করা হয়েছে।
কাজের পরিধি যে কতটা বেড়েছিল, তার ধারণা পাওয়া যায় নাম ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক হিসাব থেকে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের কার্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী, এই সময়ে মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ২৪৬টি পানির উৎস পুনরুদ্ধার এবং ১৭৮টি নদী পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করেছে সংগঠনটি। এসব উদ্যোগে ৭৭ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই অর্জন অবশ্য ফাউন্ডেশনের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
নানা পাটেকর আয়ের ৯০ শতাংশ বিলিয়ে দিতেন, কাটাতেন সাদাসিধে জীবন


