নবুয়তের যুগে প্রেম: মুগিস ও বারিরার অমর উপাখ্যান

নবুয়তের যুগে প্রেম: মুগিস ও বারিরার অমর উপাখ্যান

মুগিসের এ করুণ অবস্থা দেখে দয়ার নবীর হৃদয় ব্যথিত হয়ে ওঠে। তিনি কেবল একজন নবী বা রাষ্ট্রপ্রধানই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন উম্মতের দরদি অভিভাবক। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট আবেগও তাঁর দৃষ্টি এড়াত না। তিনি একদিন বারিরাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যদি ওর কাছে ফিরে যেতে (তবে ভালো হতো)।’

এখানেই ফুটে ওঠে ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর ও মানবিক দিকটি। বারিরা তাঁর অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি আমাকে আদেশ করছেন?’ নবীজি উত্তর দিলেন, ‘না, আমি কেবল সুপারিশ করছি মাত্র।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৮৩)

রাসুল চাইলে আদেশ দিতে পারতেন, আর তাঁর আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা কোনো মুমিনের ছিল না। কিন্তু তিনি জানতেন, জবরদস্তি করে প্রেম আদায় করা যায় না এবং মানুষের অন্তরের ওপর হুকুম চালানোর অধিকার কেবল আল্লাহর। তিনি বারিরার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ইচ্ছার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন।

বারিরা (রা.) অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাঁর উত্তর জানিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ‘না, তাঁর প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন বা আকর্ষণ নেই।’

এ স্পষ্ট জবাবের পর রাসুল তাঁকে আর কোনো জোরাজুরি করেননি। (সুনানে তিরমিজি, ৩/৪৬০, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি, মিসর, ১৯৭৫)

Scroll to Top