ভোটার নিবন্ধন করে ছবি ও বায়োমেট্রিক দিয়ে আসার পরে আপনার প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে এসএমএস এর মাধ্যমে NID নম্বর পেলেই আপনি অনলাইন থেকেই আপনার NID আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর পেলে অনলাইন থেকেই পরিচয়পত্রের কপি ডাউনলোড করা যায়। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন, মোবাইল নম্বর যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া
জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করার জন্য প্রথমে ভিজিট করুন https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ এই ওয়েবসাইটে। এখন রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করে ইনপুট ফিল্ডে ফরম নম্বর অথবা এসএমএস এ আসা আইডি কার্ডের নম্বর লিখুন। ফরম নম্বর লেখার সময় নম্বরের আগে NIDFN লিখবেন। জন্ম তারিখের ঘরে জন্ম তারিখ বসিয়ে এবং ভেরিফিকেশন নম্বর লিখে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যান। পরবর্তী ধাপে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিন। পরবর্তী ধাপে আবেদন করার সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ওটিপি ভেরিফিকেশন করে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে চাইলে মোবাইল পরিবর্তনে ক্লিক করুন।
মোবাইলে এনআইডি ওয়ালেট ইনস্টল করতে হয়। এ জন্য আপনার মোবাইলে NID Wallet App থাকতে হবে। সবশেষে NID Wallet App এর মাধ্যমে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে NID কার্ড ডাউনলোড করার ড্যাশবোর্ড ওপেন হবে। ড্যাশবোর্ড এর নিচের দিকে ডাউনলোড অপশন থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। উক্ত NID কার্ড এর ডাউনলোডকৃত অনলাইন কপিটি প্রিন্ট করে এবং লেমিনেটেড করে সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড ২০২৬ । ভোটার নিবন্ধন করে ছবি ও বায়োমেট্রিক দিয়ে আসার পরে আপনার প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে এসএমএস এর মাধ্যমে NID নম্বর পেলেই ডাউনলোড করা যায়।
এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবার ওয়েবসাইট services.nidw.gov.bd ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও যাচাই সম্পন্ন হলে ডাউনলোড অপশন থেকে ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করা যাবে।
নতুন ভোটারদের অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে যা লাগবে
অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোডের জন্য প্রয়োজন হবে—
ভোটার নিবন্ধনের ফরম নম্বর অথবা এনআইডি নম্বর
জন্মতারিখ
নিবন্ধনের সময় দেওয়া বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য
সচল মোবাইল নম্বর, যাতে ওটিপি গ্রহণ করা যায়
স্মার্টফোন বা কম্পিউটার
ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য এনআইডি ওয়ালেট (NID Wallet) অ্যাপ
নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন যেভাবে
ধাপ ১: এনআইডি সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। নতুন অ্যাকাউন্ট না থাকলে ‘রেজিস্টার’ বা ‘নিবন্ধন করুন’ অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় তথ্য দিন
নির্ধারিত ঘরে ভোটার নিবন্ধনের ফরম নম্বর অথবা এসএমএসে পাওয়া এনআইডি নম্বর লিখুন। ফরম নম্বরের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। এরপর জন্মতারিখ ও ক্যাপচা পূরণ করে পরবর্তী ধাপে যান।
ধাপ ৩: ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর যাচাই করুন
নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করুন। প্রয়োজন হলে ওয়েবসাইটে থাকা নির্দেশনা অনুসারে মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের আবেদন করা যেতে পারে।
ধাপ ৪: ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
পরবর্তী ধাপে ফেস ভেরিফিকেশন চাওয়া হলে স্মার্টফোনে NID Wallet অ্যাপ ইনস্টল করুন। ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত কিউআর কোড অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের মুখ যাচাই করুন।
ফেস ভেরিফিকেশন সফল হলে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যাবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৫: এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করুন
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পর ড্যাশবোর্ডে থাকা ডাউনলোড অপশন নির্বাচন করুন। পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি ডাউনলোডের সুবিধা চালু থাকলে পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করতে পারবেন।
ডাউনলোড করা ফাইলটি নিজের ডিভাইসে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়ার আগে তারা অনলাইন কপি গ্রহণ করে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া ভালো।
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড না হলে কী করবেন?
নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করলেই সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিবন্ধনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, এনআইডি নম্বর তৈরি এবং অনলাইন সেবা চালু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ফরম নম্বর, জন্মতারিখ বা ঠিকানার তথ্য না মিললে প্রথমে সেগুলো যাচাই করুন। এরপরও সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
এনআইডি সংশোধনের ফি অনলাইনে দেওয়া যায় কি?
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন বা পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি দিতে হতে পারে। ফি কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট সেবার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ফি যাচাই করতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফি-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখুন। ওয়েবসাইটে অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করার আগে কোনো অপেক্ষার সময় নির্ধারিত থাকলে সেটিও মেনে চলুন।
অন্যদিকে, নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য সাধারণত কোনো নিবন্ধন ফি দিতে হয় না। তবে সংশোধন, পুনরায় ইস্যু বা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে আলাদা ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে করণীয়
যাঁরা এখনো ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি, তাঁদের প্রথমে নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ ও স্বাক্ষর দিতে হতে পারে।
নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর এনআইডি নম্বর ও অনলাইন সেবা চালু হলে পরিচয়পত্র ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যাবে। সূত্র: বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস।



