নজরুলের বই প্রকাশ ঘিরে আনন্দ ও দুঃখজাগানিয়া কিছু গল্প

নজরুলের বই প্রকাশ ঘিরে আনন্দ ও দুঃখজাগানিয়া কিছু গল্প

অগ্নিবীণা প্রথম মুদ্রণের এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় মুদ্রণ চলে এল। ছাপা হলো দুই হাজার কপি। দাম বাড়িয়ে করা হলো পাঁচ সিকা। বিদ্রোহী কবি তখন কারাগারে।

নজরুলের কবিতার বই বিষের বাঁশী ও ভাঙার গান বাজেয়াপ্ত করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। তরুণেরা হুমড়ি খেয়ে পড়লেন বই দুটোর জন্য। কিছু ছাপানো ফর্মা এদিক-সেদিক রয়ে গিয়েছিল। তা বাঁধাই হয়ে গোপনে পৌঁছে গেল তরুণদের হাতে। নজরুলের পরিবারও সংকটের সময় দুটো পয়সার মুখ দেখল।

পরে (১৯২৬) নজরুলের সব বই প্রকাশের দায়িত্ব নিল ডিএম লাইব্রেরি, যেটার মালিক ছিলেন গোপালদাস মজুমদার। তিনি নজরুলের ঘনিষ্ঠদের বললেন, সব লেখার প্রকাশক তিনিই হবেন। অন্যদের যেন বই দেওয়া না হয়। আর টাকা তিনি দিয়ে যাবেনই। কিন্তু গোপালদাস কথা রাখলেন না। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও ডিএম লাইব্রেরি হিসাবপত্তরে আগ্রহ দেখাল না। নজরুল বিষয়টা জানালেন তখনকার নামী সলিসিটর নির্মলচন্দ্রকে। তাঁর অফিস থেকে দেওয়া হলো ডিএম লাইব্রেরিকে চিঠি। উকিলের চিঠি পেয়ে হুঁশ হলো তাদের। কিন্তু নজরুল এ সময় যে ভুলটি করলেন, তা হলো অগ্নিবীণার স্বত্ব বিক্রি করে দিলেন তাদের কাছে। নগদ পেলেন দুই হাজার টাকা, যা দিয়ে মোটরগাড়ি কিনলেন কবি।

Scroll to Top