এর পরিণতি ইতিমধ্যে স্পষ্ট। তথ্য কমিশনে প্রায় সাড়ে ৮০০ অভিযোগ জমা পড়ে আছে। কমিশনার না থাকায় এসব অভিযোগের শুনানি ও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রকাশনাও প্রায় বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটি এখন কেবল কিছু রুটিন প্রশাসনিক কাজ করছে। যে কমিশনের দায়িত্ব অন্য প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা, সেটি নিজেই সরকারি সিদ্ধান্তহীনতার কারণে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ তার মেয়াদে কমিশন গঠন করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস পরও অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। গত জুলাইয়ে বাছাই কমিটি গঠন এবং পরে এক মাসের মধ্যে স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠনে এমন দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়।
তথ্য অধিকার ব্যবস্থার দুর্বলতা শুধু কমিশন না থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এক জরিপে দেখা গেছে, তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করেন ৭২ শতাংশের বেশি নাগরিক, অথচ আইনটি সম্পর্কে জানেন মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি। আবার তথ্য চেয়ে আবেদন করার পর আবেদন গ্রহণের স্বীকৃতি পাওয়ার হার ২০১৯ সালের ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। তথ্য পাওয়ার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা এবং আইনগত সময়সীমা সম্পর্কে জ্ঞানও কমেছে। এসব তথ্য প্রমাণ করে, একটি আইন কাগজে থাকলেই নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না; তার জন্য সক্রিয় প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা এবং তথ্য প্রকাশে প্রশাসনের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

