দ্বিতীয় মেয়াদে কুয়েটের ভিসি ড. মুহাম্মদ মাছুদ | চ্যানেল আই অনলাইন

দ্বিতীয় মেয়াদে কুয়েটের ভিসি ড. মুহাম্মদ মাছুদ | চ্যানেল আই অনলাইন

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশল গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। শিক্ষা ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ড. মাছুদের এই প্রত্যাবর্তনকে কুয়েটের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের জয় হিসেবে দেখছেন।

পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মাছুদ কুয়েটকে একটি রাজনীতিমুক্ত, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণাই হবে আমার অগ্রাধিকার। কুয়েটে আর কোনো মব জাস্টিস বা অনৈতিক চাপের স্থান হবে না।’

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ৫ সেপ্টেম্বর তিনি প্রথমবার কুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেছিলেন। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আমলের স্থবিরতা কাটিয়ে কুয়েটকে একটি আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সাহসী ভূমিকা গ্রহণ করেন। বিশেষ করে বিগত আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার তদন্ত সাপেক্ষ কঠোর অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

কিন্তু অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদকে অপসারণে একটি কুচক্রি মহল উঠেপড়ে লাগে। নেপথ্যে ছিল গভীর রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, কুয়েটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আটকে থাকা কাজগুলো যখন দ্রুত গতিতে চলছিল, তখন একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার পারিবারিক ও রাজনৈতিক পক্ষ থেকে ১৩২ কোটি টাকার একটি নির্মাণ কাজ কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই পাওয়ার জন্য অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু ভিসি মাছুদ ‘প্রপার প্রসিডিউরে কাজ হবে’—এই নীতিতে অটল থাকায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় বিশেষ একটি রাজনৈতিক চক্র। সরাসরি মুঠোফোনে হুমকি প্রদানসহ তাকে পদচ্যুত করার জন্য মাস্টারপ্ল্যান সাজানো হয়।

গত বছরের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ ব্যবহার করে কুয়েটে একটি ভয়াবহ ‘মব’ তৈরি করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক এস কে শরিফুল ইসলাম এই মব তৈরিতে নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে উস্কে দিয়ে সংঘর্ষের মুখে ঠেলে দেন। পরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ইস্যু করে ভিসি মাছুদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।

তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক কর্মকর্তাদের সরাসরি মদদ এবং তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টার নির্লিপ্ততায় ষড়যন্ত্রটি চূড়ান্ত রূপ পায়। প্রশাসনিক কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় এবং মব জাস্টিসের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত গত বছরের ২৪ এপ্রিল তাকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

ভিসি মাছুদকে অপসারণের পর কুয়েটে দীর্ঘ প্রশাসনিক অস্থিরতা বিরাজ করে। পর পর দুইজন ভিসি নিয়োগ পেলেও তারা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে বিতর্কিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং নিয়মবহির্ভূত আচরণের কারণে কুয়েটের শিক্ষা পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক মাছুদ দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক হয়রানি ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হলেও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।

অবশেষে কুয়েটের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জোরালো আকাঙ্ক্ষা এবং বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষ তদন্তের প্রেক্ষিতে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদকে আবারও তার যোগ্য পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তার এই নিয়োগে কুয়েট ক্যাম্পাসে আনন্দের জোয়ার বইছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে কুয়েট পুনরায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে আসবে।

Scroll to Top