আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার সম্পর্কে শেখ হাসিনা জানতেন না, এমন দাবি করে বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ তিনি পাবেন না বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিরা মামলা সম্পর্কে অবগত এবং বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম এসব কথা বলেন।
গাজী তামিম বলেন, পলাতক আসামিরা ফিরে এসে প্রায়ই দাবি করেন যে তারা বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতেন না। তখন তারা দীর্ঘ বিলম্বের পর আদালতে এসে ওই বিলম্ব মার্জনার আবেদন করতে পারেন। তবে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিরা এ ধরনের অজুহাত দিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ‘তারা এই মামলা সম্পর্কে জানেন এবং বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা ফিরে আসার কথা বলছেন এবং মামলাকে মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন।’
প্রসিকিউটর আরও বলেন, শেখ হাসিনা বা অন্য আসামিরা ট্রাইব্যুনালে এসে এই সুযোগ নিতে পারবেন না। তখন প্রসিকিউশন দেখাবে, তারা এরই মধ্যে মামলা সম্পর্কে জেনে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গাজী তামিম বলেন, মামলাটির অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাওয়া যায় এবং তখন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর প্রায় এক বছর পার হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করছি যে ট্রায়ালটা একদম যথোপযুক্ত হচ্ছে এবং যথানিয়মেই হচ্ছে। আমরা দ্রুতও করছি না, আমরা দেরিও করছি না। আইন অনুযায়ী ঠিক যেখানে যতটুকু সময় দেওয়ার, ঠিক ততটুকু সময় দিয়েই এই মামলাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে গাজী তামিম বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দণ্ডাদেশের পরোয়ানা থাকলে ভারত আইনগতভাবেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।


