
ওয়াশিংটন, ১ এপ্রিল – দীর্ঘ প্রায় ৫৩ বছর পর মানবসভ্যতা আবারও চাঁদের পথে পাড়ি জমাতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের পর এবারই প্রথম চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
আর্টেমিস টু নামের এই ঐতিহাসিক অভিযানের আওতায় ফ্লোরিডা থেকে চার নভোচারী মহাকাশযাত্রা শুরু করবেন, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো ৮ অভিযানের মতো এবারও চাঁদের বুকে অবতরণ না করে কেবল কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করাই এই দলের মূল লক্ষ্য।
কমলা এবং সাদা রঙের নাসার নতুন ও শক্তিশালী এসএলএস রকেট ব্যবহার করে অভিযানটি পরিচালিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই মিশনের সফলতার ওপর নির্ভর করে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী অবতরণ এবং নিরাপদে ফিরে আসার পথ সুগম হবে।
আর্টেমিস প্রকল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী মহাকাশ ঘাঁটি নির্মাণ করা।
নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ জানিয়েছেন, চাঁদের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনা করা সহজ হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারই প্রথম কোনো চন্দ্রাভিযানে একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অমার্কিন নভোচারী একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন।
নাসার সহযোগী প্রশাসক অমিত ক্ষত্রিয় জানিয়েছেন, মহাকাশযান ও এর ক্রুরা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রকৌশল কার্যক্রম এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে নাসার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে অভিযান বাতিল বা বিলম্বিত হলে ৬ এপ্রিলের মধ্যে তা পুনরায় শুরুর সুযোগ রাখা হয়েছে।
আর্টেমিস প্রকল্পটি ইতিমধ্যে বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত এই অভিযান শুরুর জন্য চাপ দিচ্ছেন। ২০২৯ সালের শুরুতে নিজের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি চাঁদের বুকে মার্কিন নভোচারীদের পদচিহ্ন দেখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬





