যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা কামাল খারাজি। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে।
তেহরানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কামাল খারাজি এমন মন্তব্য করেন।
খারাজি বলেন, আপাতত কূটনীতির কোন সুযোগ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শেষ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি এখন আর কূটনীতির কোন সুযোগ দেখছি না। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। আমরা দুই দফা আলোচনার সময় দেখেছি। আলোচনার মধ্যেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
খারাজির মতে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ অন্য দেশগুলোকে হস্তক্ষেপে বাধ্য করতে পারে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে চায় তেহরান
খারাজি ইঙ্গিত দেন যে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য হামলা চালিয়ে যেতে পারে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে সরে আসতে রাজি করায়।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তেহরান বলছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবাসিক ভবন ও বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা
সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যা ‘‘সুয়েজ সংকট’’-এর সময়কার রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ।
আইআরজিসির দাবি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্বার্থে হামলা চালাতে ইরান তাদের সামরিক শক্তির প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে।
নতুন নেতৃত্ব নিয়ে উত্তেজনা
এদিকে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি-কে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খারাজি বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব কে হবে তা নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।




