ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই দুই সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হচ্ছেন, তা নিয়েও কথাবার্তা চলছে। তবে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়ী হওয়া এনসিপি কিছুটা আগে–ভাগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান তারা
নানা জল্পনা–কল্পনার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এনসিপিতে যোগ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি দলটির মুখপাত্র।
আসিফ মাহমুদ সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটির আসন্ন নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে আসিফের নাম।
এবারের নির্বাচনে ঢাকা–৮ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে হাড্ডাহাডি লড়াই করেছেন। নির্বাচনের পরও তিনি ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন, যোগাযোগ রাখছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার নামও আলোচনায় আছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নাম। তিনি ঢাকা–১৮ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামের নামও উত্তর সিটিতে দলের মেয়র প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় রয়েছে।
আরিফুল ইসলাম এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন নিয়ে এনসিপিতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
এককভাবে নাকি জোটগত নির্বাচন
জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে ৩০টি আসনে প্রার্থী দেয় এনসিপি। আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও তারা একই ধারায় অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। তবে নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখতে চাইছে দলটি।
গত মঙ্গলবার এনসিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি। জাতীয় নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে, প্রার্থী ঘোষণা এমনকি নির্বাচনী জোটের ঘোষণার বিষয়গুলো একদম শেষ সময়ে হয়েছে। সে কারণে যতটুকু প্রস্তুতির সময় ও সুযোগ প্রয়োজন ছিল, তা পাওয়া যায়নি। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন, উপজেলা এবং পৌরসভায় এনসিপির প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানান সারজিস।
তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপি ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে আছে এবং একসঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকায় যাচ্ছে। তবে জামায়াত এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এনসিপিও এককভাবে প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে। তবে শেষ সময়ে যদি জনগণের ও দেশের স্বার্থে মনে হয় যে ১১-দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারে, তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’




