মিরপুর টেস্টে জয় তুলে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে প্রথমবার ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। ইতিহাস গড়ার ম্যাচে প্রচলিত স্পিন সহায়ক উইকেটের বাইরে গিয়ে পেস বোলিংয়ের পরীক্ষা নিয়ে সফল হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
চতুর্থ দিন শেষে ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল ম্যাচ। সেই ম্যাচটাকেই পাকিস্তানের হাত থেকে একরকম কেড়ে নিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ এবং অধিনায়ক শান্ত। দুই পেসারের অনবদ্য বোলিং এবং শান্তর ব্যাট হাতে দাপুটে দুটি ইনিংসে ভর করে ১০৪ রানে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত জানালেন, একবারের জন্য ড্র কিংবা হারের কথা ভাবেননি তারা। ড্র কিংবা হারের আশঙ্কা থাকলেও পুরোটা সময় দল জয়ের লক্ষ্যেই খেলেছিল।
আরও ১৫-২০ রান বেশি নেয়ার লক্ষ্য থাকলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টাইইগার অধিনায়ক। বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকে স্পষ্ট ছিলাম কী করতে চাই। আমার ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০ রান বেশি করার। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। আমরা দল হিসেবে এগোচ্ছি এবং ওপরের দিকে যাচ্ছি। এই সাহসী সিদ্ধান্তটা আমাদের সামনের দিকে সাহায্য করবে।’
মূলত বোলিং আক্রমণে ভরসা করে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। শান্ত বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পেছনে কারণ হলো আমাদের বোলিং আক্রমণ। এই ম্যাচে আমাদের যে পাঁচটা বোলার খেলেছে তারা সবাই স্কিলফুল এবং ভালো বোলিং করেছে। এই ইনিংসে মিরাজ যেভাবে শুরু এনে দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিল, সেখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া গেছে। তারপরে তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। যদিও প্রথম ইনিংসে তিনি বোলিং করার তেমন সুযোগ পাননি। এই ইনিংসে তাসকিন এবং রানার ওই স্পেলটা ছিল আউটস্ট্যান্ডিং।’
জেতার জন্যই খেলার মানসিকতা নিয়ে পঞ্চম দিন মাঠে নামে বাংলাদেশ। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও ছিল এমন বার্তা। শান্ত বলেন, ‘আমাদের জন্য বার্তা ছিল, আমরা খেলাটা জেতার জন্যই খেলব। কোচও এই বার্তাটাই দিয়েছেন। আমরা সবাই ওই বিশ্বাস নিয়ে ঢুকেছিলাম যে এখান থেকে আমরা জিতব। যদি না জিততে পারি তাহলে যেন ওদের সেভ করতে কষ্ট হয়-এমন মানসিকতা ছিল। একবারের জন্যও আমরা ড্র বা হারের চিন্তা করিনি। আমাদের আগ্রাসী মানসিকতা ছিল। ভালো পাঁচটা বোলার আছে বলেই এই সাহসগুলো দেখাতে পেরেছি। তবে বোলিং ইউনিটে আরও উন্নতির জায়গা আছে। সেটা হলে ভবিষ্যতে আরও এরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
জয়ের প্রসঙ্গে শান্ত আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ২৭০ প্লাস রান করা। যখন আমরা ২৬৭ তে শেষ করলাম, বিশ্বাস ছিল যে এখান থেকে ম্যাচটা বের করতে পারব।’
জয়ের পেছনে পেসারদের কৃতিত্ব দিয়ে শান্ত বলেন, ‘পঞ্চম দিন হিসেবে উইকেট খুব একটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল তা নয়। এই ১০টা উইকেট নিতে আমাদের বোলারদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ব্যাটিংয়ের সময় মাথায় ছিল ২৭০-২৮০ রান কতটুকু নিরাপদ হবে, কিন্তু কোয়ালিটি বোলিং অ্যাটাক থাকলে যেকোনো মাইন্ডসেট নিয়ে নামা সম্ভব।’
তাসকিন এবং রানাকে বিশেষ কৃতিত্ব দিয়েছেন শান্ত। বলেছেন, ‘আসলে শুরুটা তাসকিন এনে দিয়েছে। ও যেভাবে চা বিরতির পরে এসে বোলিং শুরু করেছে, ওই চার-পাঁচ ওভারের স্পেলটা আসলে মোমেন্টাম আমাদের দিকে নিয়ে এসেছে। রানা কতটা স্পেশাল আমি জানি। ওর স্কিল আস্তে আস্তে উন্নত হচ্ছে। ওটা অনেক উপভোগ করেছি এবং প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল এটা দেখতে অবশ্যই ভালো লেগেছে। ও যেভাবে টিমের জন্য অবদান রেখেছে, তাতে আমি খুবই খুশি। আমাদের ইচ্ছা থাকবে ও যেন নিয়মিত এভাবে টিমের জন্য অবদান রাখে।’






