মা কাসালিকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘তুই আমাদের বাঁচিয়েছিস।’
কাসালি মৃদু হেসে বলল, ‘আমি শুধু ভয়কে ভয় পাইনি, মা।’
নাগাঙ্গা
জাম্বিয়ার এক রহস্যঘেরা বনের গভীরে বাস করতেন লুচেলে নাগাঙ্গা নামের এক চিকিৎসক। একই সঙ্গে তাঁর ছিল জাদুবিদ্যার দারুণ ক্ষমতা।
তার ছোট্ট কুঁড়েঘর। সেই ঘরের সামনে ঝুলত শুকনা ভেষজ। বাতাসে ভেসে বেড়াত অদ্ভুত গন্ধ। কেউ অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ছুটে আসত।
একদিন এক যুবক এল। তার মুখে ক্লান্তি, চোখে হতাশা। সে বলল, ‘গুরু, আমার জীবনে কোনো আনন্দ নেই। আমি সুখ চাই।’
নাগাঙ্গা গভীরভাবে তার দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, ‘সুখ পাওয়া যায় না। সুখ খুঁজে নিতে হয়।’
‘কোথায় খুঁজব?’ যুবকটি বলল।
নাগাঙ্গা তাঁর হাতে একটি লাঠি দিয়ে বললেন, ‘এটি তোমাকে মনে করিয়ে দেবে—তুমি একা নও।’
যুবক যাত্রা শুরু করল। বনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে শুনল কেউ একজন কাঁদছে। কাছে গিয়ে দেখল, একজন বৃদ্ধ লোক মাটিতে পড়ে আছেন।
যুবকটি ভাবল, এখানে দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। তাই সে আবার হাঁটতে শুরু করল। একটু পর তার মনে হলো মানুষকে সাহায্য করাই তো আসল কাজ। আবার বৃদ্ধের কাছে সে ফিরে এল। তাকে সে সাহায্য করল। বৃদ্ধ হাসল। তারপর মুহূর্তের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে গেল।
যুবক অবাক হয়ে গেল। সামনে এগিয়ে চলল। এরপর সে দেখল, একটি শিশু নদীতে পড়ে যাচ্ছে। সে ছুটে গিয়ে তাকে বাঁচাল। শিশুটিও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।
তৃতীয়বার সে পৌঁছাল এক গ্রামে, সেখানে সবাই ঝগড়া করছে। সে শান্তভাবে সবার উদ্দেশে বলল, ‘আমরা যদি একে অন্যকে না বুঝি, তবে সুখ কোথায় পাব?’
তার কথা শুনে সবাই থেমে গেল। ধীরে ধীরে শান্তি ফিরে এল গ্রামে। তারপর হঠাৎই সবকিছু অদৃশ্য হয়ে গেল।
যুবকটি আবার চিকিৎসক নাগাঙ্গার সামনে এসে দাঁড়াল। নাগাঙ্গা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী শিখলে?’
যুবক বলল, ‘সুখ কোনো বস্তু নয়। এটা মানুষের কাজের মধ্যে থাকে।’
নাগাঙ্গা হাসলেন, ‘তুমি সত্য জেনে গেছ।’
তারপর সেই যুবক তার গ্রামে ফিরে গেল। বিপদে সে সবার পাশে দাঁড়াতে লাগল। এভাবে ধীরে ধীরে পুরো গ্রাম বদলে গেল। এখন মানুষ একে অন্যকে সাহায্য করে। তারা হাসে, গান গায়, নেচে বেড়ায় মনের আনন্দে।
আর দূরে বসে নাগাঙ্গা মৃদু হেসে বলে, ‘মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় জাদু।’



