মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালে তার এ আহ্বান নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিকে আলোচনায় এনেছে।
রোববার (৩১ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আব্রাহাম চুক্তি হলো এমন একটি কূটনৈতিক কাঠামো, যার লক্ষ্য ইসরায়েল এবং বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। বাইবেলের চরিত্র আব্রাহামের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে, যাঁকে ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখা হয়।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে (২০১৭–২০২১) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং বিজ্ঞান, শিল্প, চিকিৎসা ও বাণিজ্যের মতো খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করে। তবে সমালোচকদের মতে, চুক্তিটি তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত এবং এতে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে নতুন করে বেশ কয়েকটি দেশকে এই কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্ভাব্য স্বাক্ষরকারী হিসেবে তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং জর্ডান এর নাম উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, সৌদি আরব ও কাতারের অবিলম্বে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত। তার ভাষায়, এতে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্য ‘ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ’ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এমনকি তিনি ইরানকেও এই কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে কাজাখস্তানও এই কাঠামোয় যুক্ত হয়, যদিও দেশটি ১৯৯২ সাল থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালে মিশর-ইসরায়েল শান্তি চুক্তি এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডানের সঙ্গে চুক্তির পর এটিই ছিল বৃহত্তর আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সমর্থকদের মতে, আব্রাহাম চুক্তি আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। উদাহরণ হিসেবে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কৃষি ও প্রযুক্তিখাতে একাধিক সমঝোতা চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে সমালোচকদের মতে, এই কাঠামো ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সমাধানকে পাশ কাটিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কোন রকম প্রশ্নের অগ্রগতি ছাড়াই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের কূটনৈতিক দর-কষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অদূর ভবিষ্যতে নতুন কোনো দেশের এই কাঠামোয় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
সৌদি আরব ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠির দিকে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। অন্যদিকে, কাতার নিজেকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং ফিলিস্তিনি ইস্যুতে প্রকাশ্য অবস্থানের কারণে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হয়। একইভাবে, ইসরায়েলের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈরী অবস্থানের কারণে ইরান-এর এই কাঠামোয় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।





