দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে অন্তত ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভনের স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মনু, খোয়াই, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বর্তমানে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন দ্রুত বাড়তে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর পানি আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




