টাঙ্গাইলে ৬ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধসহ ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইলে ৬ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধসহ ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা

সাভারের গোলাপ গ্রাম সংলগ্ন ফুল বাজারে সাধারণত ৩০০ পিসের ১ বান্ডেল গোলাপ বিক্রি হয় আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায়। তবে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসে এই ফুলের দাম হয়ে যায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফুল চাষিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে। কেন এত চড়া দামে বিক্রি হবে গোলাপ, তাও জানিয়েছেন গোলাপ চাষিরা।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রাম খ্যাত সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া বাগ্নিবাড়ি এলাকা জুড়ে গোলাপ চাষিদের সাথে কথা বললে গোলাপ ফুলের বাজার দর নিয়ে এমন ধারণাই মেলে।

ঢাকা শহরের কাছে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন। এখানকার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই সারাবছর বাণিজ্যিকভাবে গোলাপের চাষ হওয়ায় জায়গাটি সকলের কাছে গোলাপ গ্রাম নামে পরিচিত। গ্রামে ঢুকতেই রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভালবাসার প্রতীকগুলো আপনাকে স্বাগত জানাবে। ফুলে ভরা বাগানগুলোর এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে গোলাপ গ্রামে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

টাঙ্গাইলে ৬ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধসহ ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা
সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে গোলাপ গ্রামে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা


কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নটির প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে গোলাপ চাষ হয়। এর বাইরে আছে জারবেড়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল। আর এসব বাগানে প্রায় দেড় হাজার কৃষক ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৪ মাস গোলাপের মূল মৌসুম। উৎপাদন ও দাম দুটোই বেশি থাকে মৌসুমে।

এই সময়টাতে সাধারণত ৩০০ পিসের ১ বান্ডেল গোলাপ বিক্রি হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এর দাম হয়ে যায় ৪ হাজার টাকা। পরে ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে যার দাম হয়ে যায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৩ গুণ।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৪ লাখ পিস ফুল পাওয়া যায়। আর হেক্টরে গোলাপ গাছ থেকে ১০ লাখ থেকে ১১ লাখের কিছু বেশি।

বছরের বাকি সময়টাতে ফুল উৎপাদন যেমন কমে আসে, তেমনি কমে আসে ফুলের চাহিদা ও দাম। এছাড়া সারা বছরের উৎপাদন খরচ তো আছেই। তাই বলা যায় পুরো বছরের খরচ মেটাতে মৌসুম ও বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে বাড়তি দাম নেওয়া হয়।

ভালোবাসা দিবসে গোলাপের দাম হবে ৩ গুণ


বিরুলিয়ার গোলাপ চাষি আনোয়ার হোসেন ৩ বিঘা জমি নিয়ে গোলাপ চাষ করেন। আনোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে কাটিং করে গাছের পরিচর্যা শুরু হয়। অক্টোবরে গাছের খাবার দেওয়া হয়। আর ১৬ ডিসেম্বর, ১ জানুয়ারি, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চে আমাদের মূল বিক্রির সময়। এই ধাপগুলোতে আমরা বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখতে পারি। কিন্তু মাঝে মাঝে বিভিন্ন রোগ গ্রাস করে ফেলে। তাই ভালোবাসা দিবসে ক্ষতি বা খরচ পুষিয়ে নেন চাষিরা।

কৃষকরা সবজি চাষ বাদ দিয়ে কেন ফুল চাষে ঝুঁকছেন

বিরুলিয়ায় বর্তমানে ৮০০ হেক্টর জমিতে ধান, ৪০০ হেক্টর জমিতে সবজি ও ২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি কয়েক বছর ধরেই চাষিরা ঝুঁকছেন গোলাপসহ অন্যান্য ফুল চাষে।

সাভার উপজেলা কৃষি অফিসের বিরুলিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঢাকার কাছে অবস্থান হওয়ায় ফুল বিক্রির বাজার ভালো আর সবজির চাইতে লাভও বেশি। বিরুলিয়ার জমি তুলনামূলক উঁচু, আর উঁচু জমিতে গোলাপ চাষ ভালো হয়। ১২ মাসই গোলাপ গাছ থাকে, উঁচু জমিতে পানি জমে থাকার সুযোগ থাকে না। এছাড়া সবজি বা অন্যান্য ফসল ৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদী হয়ে থাকে। সেখানে প্রতিবার ফসল বা সবজি বুনতে হবে, মাচা দিতে হবে, সার দিতে হবে। আর গোলাপ একবার বোনা হলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ফুল দেয়। এতে সারাবছর ফুল বিক্রি করে নগদ টাকা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

Scroll to Top