টাঙ্গাইলে বেড়ে গেছে গরু চুরি, দিশেহারা খামারিরা

টাঙ্গাইলে বেড়ে গেছে গরু চুরি, দিশেহারা খামারিরা

রাতের আঁধারে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের গোয়ালের গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক খামারি ও গৃহস্থরা। চোর ঠেকাতে রাতের আঁধারে পাহারা দিচ্ছেন তারা। এব্যাপারে পুলিশসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।

টাঙ্গাইলের পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত বংশাই নদীর তীরবর্তী জনপদ বাসাইল উপজেলার নাইকানীবাড়ি, মিরিকপুর, হান্দুলিপাড়া, রাশড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের এখন রাত কাটছে নির্ঘুমে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন বাড়ি থেকে রাতের বেলা চুরি হয়ে যাচ্ছে পালের গরু। কারও দু’টি আবার কারও তিন-চারটি গরু চুরি হয়ে গেছে। অনেকের শেষ সম্বল দুধের গাভি চুরি হওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে তাদের। গত তিন মাসে এসব এলাকায় কমপক্ষে ৭টি বাড়িতে ১৮টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

টাঙ্গাইলে বেড়ে গেছে গরু চুরি, দিশেহারা খামারিরা

শুকুরি বেগম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দুই বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। আমার স্বামী চারটি গরু রেখে গিয়েছিলেন। সেই গাভীর দুধ বিক্রি করে আমার সংসার চলতো। রাতের আঁধারে গাভিসহ দুইটি বখনা বাছুর চুরি হয়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে চলবো। গাভিসহ দুইটি বখনা বাছুরের মূল্য আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ টাকা। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাইনি।

খামারি বাচ্চু মিয়া বলেন, রাতের আঁধারে আমার তিনটি গরু চুরি হয়ে গেছে। গরু তিনটির আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা। আমরা যারা ক্ষুদ্র খামারিরা আছি, তাদের সংসার চলে গাভীর দুধ বিক্রি করে। এমন করে যদি গরু চুরি হয়ে যায়, আমরা ক্ষুদ্র খামারিরা পথে বসে যাবো। গরু চুরির বিষয়ে থানায় জানিয়েছি।

আরেক খামারি জুয়েল মিয়া জনান, সংসারের আয়ের উৎস ছিল এই গাভীর দুধ বিক্রির টাকা। চুরি হওয়ার পর থানায় বিষয়টি জানিয়েছি। বিভিন্ন হাট-বাজারে গেছি চুরি হওয়া গরুর সন্ধান করতে গিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল বলেন, এ বিষয়ে আমি উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছি। থানা পুলিশকেও বলেছি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এভাবে গরু চুরি হতে থাকলে গৃহস্থের গোয়াল শূন্য হয়ে পড়বে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই চোর ধরা সম্ভব। কেন গরু চোর ধরা পড়ছে না বুঝতে পারছি না। এছাড়াও এলাকার লোকজনকে সচেতন করতে উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

বাসাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন বলেন, গরু চুরি রোধ করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাদের গরু চুরি হয়েছে তাদের কয়েকজন মৌখিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন। তারপর থেকে রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এসব চোরদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।

Scroll to Top