
ইসলামাবাদ, ১০ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তানের সরকার বিভিন্ন ধরনের মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ও সঞ্চয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সরবরাহ সঙ্কটের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে এই সঙ্কট ঘনীভূত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে ব্যাপক ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, পুরো অঞ্চল সংঘাতের কবলে পড়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়ে তিনি জানান, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলা ও তাকে হত্যার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান।
বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আগামী দুই মাস সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো এবং ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি ব্যবহার বন্ধ রাখা। ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারা আগামী দুই মাস কোনো বেতন পাবেন না। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া সব সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভার্চুয়াল মিটিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন কাটার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের নৈশভোজ নিষিদ্ধ এবং সেমিনার ও অনুষ্ঠানের জন্য শুধু সরকারি ভেন্যু ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক কর্মী বাসা থেকে কাজ করবেন। সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। তবে ব্যাংক এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে স্কুলগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস চলবে।
এনএন/ ১০ মার্চ ২০২৬




