জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে জাতীয়ভাবে সম্মত থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে জাতীয়ভাবে সম্মত থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা জুলাইযোদ্ধাদের ইনডেমিনিটি দিয়েছি, এটাতে আমাদের জাতীয়ভাবে সম্মত থাকতে হবে।

মন্ত্রী আজ বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-রিফর্ম ওয়াচ’ আয়োজিত “মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের হাতে যদি কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে থাকে…আজকাল একটা আওয়াজ উঠছে যে তাদের (ভুক্তভোগী) কি মামলা করার অধিকার নেই? কেন ইনডেমনিটি দিলেন?’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের গুলিতে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে যদি আমাদের কোনো কর্মকাণ্ড এমন হয় যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে…আমরা তো সবকিছুকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলতে পারব না।

আমাদের অবস্থান হলো আমরা জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়েছি। এটাতে আমাদের সম্মত থাকতে হবে জাতীয় ভিত্তিতে।’

এই দায়মুক্তির বিষয়ে জাতীয়ভাবে ঐকমত্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, ‘লাখ লাখ মামলাবাজির মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি স্থাপন করা যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, যেহেতু ফ্যাসিস্ট রেজিমে আমরা মারাত্মক আকারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হতে দেখেছি বিশেষ করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। সেজন্য একটি রাজনৈতিক দল বা জাতি হিসেবে আমরা মানবাধিকার সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; বিশেষ করে সংবিধানে যেসব মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। এটা আমাদের ৩১ দফায়ও রয়েছে। ইশতেহারে বিভিন্ন বিষয়ে আমরা কমিশন করার কথা বলেছি যার মধ্যে মানবাধিকার এবং ট্রুথ এন্ড হিলিং কমিশনের কথাও রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে যাতে ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা শূন্যতে নেমে আসে, সেজন্য আমাদেরকে ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমিকভাবে মানবাধিকার উন্নয়নে যেতে হবে। রাতারাতি শতভাগ মানবাধিকার সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার মান ও সূচককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নত করতে চাই। তবে সেজন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে। আমরা জানি, কারা, কিভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় এটার বাস্তবায়নে বাধা দিতে পারে। সেজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হয়েছে, সেখানে প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। কিছু কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনতে হতে পারে যেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ধ্যান-ধারণা মতে জারি করেছে, সেই অধ্যাদেশগুলোর অধিকাংশই হয়তো হুবহু আকারে আমরা গ্রহণ করতে পারবো। তবে বেশ কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে, যেগুলো আলোচনার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, যেহেতু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে জাতীয় সংসদেন অধিবেশন যেদিন বসবে তার থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ ল্যাপস, পাস অথবা সংশোধনী আকারে গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া যেহেতু সময়ের স্বল্পতা রয়ে গেছে ৩০ দিনের (৩০ কার্যদিবস নয়), মাঝখানের বন্ধ বা ছুটির দিনও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। সেজন্য যেসব অধ্যাদেশ আমরা সংসদে উঠাতে পারবে না, সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাপস হয়ে যাবে কিন্তু পরবর্তী অধিবেশনে সেগুলো আমরা বিল আকারে আনতে পারবো।

মন্ত্রী বলেন, সংসদে আমরা একটা প্রারম্ভিক ভাষণও দিয়ে রাখবো। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের ভেতর যেটা সম্ভব, আমরা সেটা করবো। তার মধ্যে অবশ্যই মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশটি থাকবে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৭টি অধ্যাদেশও রয়েছে।

নাগরিক প্লাটফর্ম এর আহবায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এর সভাপতিত্বে সংলাপে অংশ নেন ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এমপি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নারীনেত্রী খুশী কবির প্রমুখ।

Scroll to Top