চলতি মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে দেশের ১৮ জেলায় অন্তত ৩২ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত শিশুদের ৭ জনের বয়স ছিল ৫ বছরের নিচে, ৬ থেকে ৯ বছরের ১২ জন, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী ৭ জন, এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৬ জন।
গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি এ তথ্য জানায়।
জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ৬ তারিখের মধ্যে সংঘটিত ২২টি দুর্ঘটনার এসব শিশু মারা যায়। এর মধ্যে ১০টি ঘটনায় একাধিক শিশু মারা গেছে।
নিহত শিশুদের ২৮ জন বাড়ির পাশের পুকুর, ডোবা বা অন্যান্য জলাশয়ে মারা যায়। বাকিরা নদী বা অন্য জলাশয়ে ডুবে মারা যায়। খেলতে গিয়ে, গোসল করতে গিয়ে অথবা পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পানিতে ডুবে যায় তারা।
অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে। তবে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঘটেছে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু।
ঘটনাগুলো ঘটেছে দিনাজপুর (ঘোড়াঘাট) পালশা ইউনিয়ন, বরগুনা (সদর), ঝিনাইদহ (কোটচাঁদপুর) দিনাজপুর (ঘোড়াঘাট) সিংড়া ইউনিয়ন, সুনামগঞ্জ (শাল্লা), কুমিল্লা (বরুড়া), ঠাকুরগাঁও (বালিয়াডাঙ্গী), নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার), কিশোরগঞ্জ (করিমগঞ্জ), খুলনা (বটিয়াঘাটা, পানখালী), সিলেট (জাফলং), রংপুর (গোবিন্দগঞ্জ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর), গাজীপুর (কালীগঞ্জ), সাতক্ষীরা (কালীগঞ্জ), যশোর (সদর), নেত্রকোনা (কলমাকান্দা), কুড়িগ্রাম (রাজিবপুর), পঞ্চগড় (তেঁতুলিয়া), গাজীপুর (কোনাবাড়ী), জয়পুরহাট (সদর), রংপুর (বদরগঞ্জ) এলাকায়।
২০১৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এবং আইসিডিডিআরবি পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৪০ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ৩০ জনই পাঁচ বছরের কম বয়সী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীতে তিন লাখ ৫৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর ৯০ শতাংশই মারা যায় নিম্ন ও মধ্যমআয়ের দেশগুলোতে।
বাংলাদেশে এক থেকে চার বছরের শিশু মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশই মারা যায় পানিতে ডুবে। ডব্লিউএইচও’র গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিংয়ে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালক ডা. আমিনুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বর্তমানে পানিতে ডুবার পরিস্থিতি অনুধাবন করার জন্য একটি বৃহৎ জরিপ করতে হবে, যার মাধ্যমে পানিতে ডুবার ফলে মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও সামাজিক প্রভাবের ব্যাপকতা পরিমাপ করা যাবে।
তিনি বলেন, স্টেকহোল্ডারদের মাঝে পানিতে ডুবে যাওয়া বিষয়ে সচেতনা বৃদ্ধি করা এবং পানিতে ডুবা হ্রাসের লক্ষ্যে বিভিন্ন সেক্টরের সমন্বয়ে একটি ফোরাম গঠন করতে হবে। এই ফোরাম বরিশাল বিভাগে পানিতে ডুবা প্রতিরোধ কার্যক্রমগুলি সমন্বয় করবে এবং নিশ্চিত করবে যে কমিউনিটি, নদী বা জলাশয় ব্যবহারকারী ও নদী নির্ভর জীবিকায় জড়িত জনগোষ্ঠী যেন পানিতে ডুবা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ পায়।





