বলিউডের সাফল্যের শিখরে তখন অবস্থান তার। একের পর এক সুপারহিট সিনেমা এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা—সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ করেই যেন মুম্বাইয়ের মায়ানগরী থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন প্রিয়াংকা চোপড়া। দীর্ঘদিন পর সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী নিজেই।

সম্প্রতি ‘নট স্কিনি বাট নট ফ্যাট’ নামের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, কেন শেষ পর্যন্ত তাকে বলিউড ছাড়তে হয়েছিল।
বলিউডের ভেতরের নোংরা রাজনীতি এবং নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলার ইঙ্গিত দিয়ে প্রিয়াংকা বলেন, ‘আমি আসলে এমন একজন মানুষ যে পচা আবর্জনার মধ্যে বেশিক্ষণ থাকতে পছন্দ করি না। কারণ বেশিদিন সেখানে থাকলে আপনি সেই গন্ধে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আমি দীর্ঘক্ষণ কোনো নোংরামির মধ্যে থাকতে চাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জীবন সব সময় সহজ পথে চলে না। আমাদের সবার জীবনেই কিছু লড়াই থাকে। যখন সময় কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আমাদের উচিত নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে নতুন পথে চলা। আমি আমার ক্যারিয়ারে অনেকবার এমনটা করেছি। এক মুহূর্তের জন্য কষ্ট পাওয়া বা শোক করা ঠিক আছে কিন্তু তারপরই সব ঝেড়ে ফেলে উঠে দাঁড়াতে হয়।’
হলিউডে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তটিও প্রিয়াংকা জন্য সহজ ছিল না। কারণ সে সময় বিশ্বমঞ্চে ভারতীয়দের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। প্রিয়াংকা জানান, তখন আমেরিকার পপ সংস্কৃতিতে মিন্ডি কেলিং কিংবা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ছাড়া আর কোনো ভারতীয় মুখ তেমন দেখা যেত না। এই অভাববোধ এবং নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করার তাগিদই তাকে অজানার পথে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছিল।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে প্রিয়াংকা বলেন, ‘হলিউডে যাওয়ার সময় আমার সামনে কোনো নিশ্চিত পথ বা উদাহরণ ছিল না। আমি শুধু জানতাম আমি কঠোর পরিশ্রমী এবং নিজের কাজটা জানি। যে কোনো পরিচালক বা সহ-অভিনেতার সামনে আমি সমানে সমানে পাল্লা দিতে পারি এই আত্মবিশ্বাস আমার ছিল। তাই কোনো কিছু না ভেবেই বেরিয়ে পড়েছিলাম।’



