মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। ঐতিহাসিক জয়ে একমাত্র গোল করেছিলেন ফরোয়ার্ড ফেররান তরেস। তার গোলে ১-০তে জিতে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ উচিয়ে ধরার সুযোগ পায় স্পেন। সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তে তুলে ধরেছেন তার স্কোয়াড নির্বাচন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন এবং তারকা তোরেসের পারফরম্যান্স ও তার ওপর আসা অহেতুক সমালোচনার জবাব দেয়ার কথা।
তরেসের গোল অতিরিক্ত সমালোচনার জবাব দিয়েছে উল্লেখ করে ডে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘একটি একাদশ নিয়ে আসর শুরু হয়, তবে অনুশীলনের পারফরম্যান্স এবং উন্নতিগুলো নজরদারিতে রাখা হয়। আমার একটি অসাধারণ কোচিং স্টাফ রয়েছে যারা আমাকে দারুণ তথ্য দেয়। আর আমি বিশ্বাস করি একটি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় রয়েছে যা সবকিছুতে সাহায্য করে এবং বিশেষ মুহূর্তে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়।’
‘বিশ্বকাপ জয়ের পর কোন খেলোয়াড়ের জন্য আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম? ফেরান তরেসের ক্ষেত্রে কি তা ভিন্ন ছিল? ফাইনালে ফেরান গোল করায় আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। কারণ আমি সবসময় নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করি। আর যখন আমি অন্যায়, অতিরিক্ত এবং অহেতুক সমালোচনা এমনকি মাঝে মধ্যে কুৎসিত উদ্দেশ্যে করা সমালোচনা দেখি, তখন জীবন আপনাকে জবাব দেয়ার এবং নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দেয়।’
এরপর তারকা ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ বলেন, ‘তরেসের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। জাতীয় দলের হয়ে ফেরানের পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য, এবং তার ক্লাবের ক্ষেত্রেও তাই। প্রতিটি ম্যাচে তার গোলের অনুপাত চমৎকার। সে আমাকে খানিকটা আলভারো মোরাতার কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যায়ের জবাব দিয়ে যখন কেউ বুক চিতিয়ে লড়াই করে, তা দেখে আমি আনন্দিত হই। তরেস এর যোগ্য ছিল, কারণ সে চাইলে হাল ছেড়ে দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকতে পারত, কিন্তু সে তা করেনি।’
স্পেন দলে বিশ্বকাপে যেসব খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাননি তাদের বিষয়টি কোচকে ভারাক্রান্ত করেছে। ‘যারা খেলতে পারেনি তাদের অবস্থা দেখে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। ইউরোতে একমাত্র অ্যালেক্স রেমিরো এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাননি। আমি চেয়েছিলাম সবাই খেলুক, কারণ তারা সবাই খেলার যোগ্য। তবে সবাইকে খেলাতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা আমি কখনো অনুভব করিনি। দলের স্বার্থই সবসময় অগ্রাধিকার পায়।’



