চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা সমর্থনযোগ্য নয় এবং এমন কোনো পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (১৫ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফেরার পথে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক।
ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি। একটি যুদ্ধ করার জন্য আমাদের প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি এমন কিছু চাই না। আমি চাই সবাই শান্ত থাকুক, চীনও শান্ত থাকুক।
দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। বেইজিং স্বশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমর্থন না করলেও দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং এটি ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে।
তাইওয়ান ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। এতে উন্নত রকেট লঞ্চার ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাইওয়ান নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা বলতে চান।




