মজার ব্যাপার হলো, চীন নয়, এমন একটি বিকল্প বিশ্বনেতৃত্বের কথা প্রথম প্রস্তাব করে রাশিয়া, নব্বই দশকের মাঝামাঝি। চীন, রাশিয়া ও ভারত নিয়ে গঠিত এমন একটি সম্ভাব্য জোট, যার নাম হবে ‘ত্রইকা’—সোজা বাংলায় তিনজন—সে প্রস্তাব করেছিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভগেনি প্রিমাকভ। তত দিনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়েছে, তার জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া।
প্রিমাকভ প্রস্তাব রাখলেন, আমরা তিন দেশ একজোট হলে মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত এক মেরুর বিশ্বের বদলে একটি বহুকৌণিক বা মাল্টিপোলার বিশ্ব গঠন সম্ভব। কৌশলগত ত্রিকোণ বা স্ট্র্যাটেজিক ট্রায়াঙ্গেল হিসেবে এই ত্রইকার লক্ষ্য হবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রশ্নে দেশ তিনটির কার্যক্রমের সমন্বয় প্রতিষ্ঠা।
সেই লক্ষ্যে ২০০২ সালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক সংগঠন হিসেবে তা কখনোই আত্মপ্রকাশ করেনি।
এখন স্পষ্ট, সেটি ছিল ২০০১ সালে গঠিত হয় সিএসওর পূর্বসূরি। আর আট বছর পরে গঠিত হলো ব্রিকস, যা এখন খোলামেলাভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের প্রতি একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ।
ওয়াশিংটনের চোখে একক শক্তি হিসেবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। সে লক্ষ্যেই তারা গড়ে তুলেছে একাধিক সামরিক আঁতাত, দেশটির চারধারে নির্মাণ করেছে দুই ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটি। অথচ সেই চীন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম নতুন আঁতাত ব্রিকস নয়, একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। তিয়ানজিন সম্মেলনে চীন তেমন বিশ্বব্যবস্থার একটি খসড়া নীলনকশা হাজির করল।



