‘ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া’ জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা | চ্যানেল আই অনলাইন

‘ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া’ জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা | চ্যানেল আই অনলাইন

মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট ভালোই খেলেছিল কেপ ভার্দে। আক্রমণে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তবে দ্রুতই তারা রক্ষণে মনোযোগ দেয়। হাইড্রেশন ব্রেক অবধি আর্জেন্টিনা তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের ১৮ মিনিটে একটি ফ্রি কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেয়া ফ্রি কিক সরাসরি জমা পড়ে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহার হাতে।

তবে ২৯ মিনিটে কেপ ভার্দের দেয়াল ভাঙেন লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ লম্বা পাস বাড়ান মেসির দিকে। ডি বক্সের মধ্যে প্রথম স্পর্শেই বলকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। এরপর দ্বিতীয় স্পর্শে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে বল পাঠান জালে। বিশ্বকাপে ৩০তম ম্যাচ খেলতে নেমে ২০তম গোল মেসির, চলতি বিশ্বকাপে সপ্তম।

ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার রক্ষণে হানা দেয় নিয়মিতই। তবে ডি-বক্সের কাছে এসে থামতে হয় তাদের। ৩৮ মিনিটে শট করলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটেও আক্রমণ সাজায়, তবে লাভ হয়নি।

ম্যাচের ৪৪ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল মুখে শট নেন লৌতারো মার্টিনেজ। তবে বা-দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা। শেষ অবধি ১-০ গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিল কেপ ভার্দে। অবশেষে ৫৯ মিনিটের মাথায় সুফলও পায় তারা। রায়ান মেন্দেসের চমৎকার পাস থেকে গোল করলেন দেরয় দুয়ার্তে।

৬২ মিনিটে লিওনেল মেসি একা গোলমুখে ছুটে গিয়েছিলেন। গোলের দারুণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল তার সামনে। কিন্তু কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শরীর ছড়িয়ে দেন এবং মেসির শট ঠেকিয়ে দেন দুর্দান্ত সেভে।

৭৩ মিনিটে আবার কেপ ভার্দের ত্রাণকর্তা ভোজিনহা। লিওনেল মেসির চমৎকার ফ্রি কিক অনেকটা পথ এগিয়ে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক। পরে কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

৮১ মিনিটে ফের সুযোগ হারায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির পাস থেকে ডান পাশে বল পেলেন নাহুয়েল মোলিনা। তিনি সেন্টার করলেন ডি বক্সে। মিস করেন ভোজিনহা। তবে এনজো ফের্নান্দেজ বল পাওয়ার আগেই ক্লিয়ার করে দেন রবার্তো লোপেস।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ৩০ গজের বেশি দূর থেকে শট নিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাতেও কাজ হয়নি। আরও একবার ঠেকান ভোজিনিহা। চতুর্থ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের খুব কাছে লিওনেল মেসিকে পেছন থেকে ফাউল করেন কেপ ভার্দের ফুটবলার। বাম পায়ে নিচু করে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিক নেন লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দে এক ফুটবলারের গায়ে বাধা পেয়ে বল গেল গোলের দিকেই। কোনোমতে ঠেকিয়ে দিলেন ভোজিনহা। ফিরতি বলে হুলিয়ান আলভারেজের হেড করেন। তবে উঠে থামিয়ে দেন ভোজিনহা। শেষ অবধি ১-১ সমতায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

৯৩ মিনিটে আলবিসেলেস্তেদের স্বস্তি এনে দেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির নেয়া কর্নার থেকে আসা বল ম্যাক আলিস্টারের ছোঁয়া লেগে যায় লিসান্দ্রো মার্টিনেজের কাছে। বলটি জোরালো বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান। এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

১০৩ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনা ডি বক্সের বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি লোপেস ক্যাব্রাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নেন, আর বল গিয়ে জড়ায় পোস্টে। নিখুঁত শটে গোল করে সমতায় ফেরান কেপ ভার্দেকে। পরে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ সমতায়।

১১১ মিনিটে ফের লিড নেয় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার নিখুঁতভাবে ভেসে আসে বক্সে। সবার ওপরে উঠে শক্তিশালী হেড করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের বল জড়িয়ে যায় জালে।

১১৫ মিনিটে ডি বক্সের খুব কাছে বিপজ্জনক জায়গায় ফাউল করেন গঞ্জালো মন্টিয়েল। ফ্রি কিক পায় কেপ ভার্দে। সিডনি লোপেস কাব্রালের বাঁকানো ফ্রি কিক কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

১১৮ মিনিটে ডান পাশ থেকে উড়ে আসা ক্রসে হেড করেন কেপ ভার্দের ফুটবলার। সামনেই ছিলেন আরেক জন। তিনি পাওয়ার আগেই কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। এরপর বাকি সময়টায় লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

শেষ ষোলোতে মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আল্টালান্টায় গড়াবে ম্যাচটি।

Scroll to Top