
গাজা উপত্যকা, ৭ ফেব্রুয়ারি – গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে হাজার হাজার স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বর্তমানে নেই বললেই চলে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে গাজায় পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন বা ২৫০ কোটি ডলার। এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে প্রতিদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান এল-নাবিহ তার সাইকেলে ব্রিফকেস এবং ল্যাপটপ বেঁধে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। মূলত ছাত্রদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রক্ষা করাই তার এই প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পূর্বে একজন অধ্যাপকের সাইকেল চালানোর দৃশ্য সচরাচর দেখা যেত না।
তবে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট করুণ বাস্তবতায় গাজার ধনী ও দরিদ্র এবং মালিক ও চাকরিজীবী সবাই এখন একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং গণপরিবহন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতের জন্য সাইকেলই এখন অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অধ্যাপক এল-নাবিহ জানান যে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় পার্কিং করার সময় তার গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় নিকটবর্তী একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গাড়ির উভয় উইন্ডোস্ক্রিন ভেঙে যায় এবং ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়ে। গাড়িটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার কারণে তাকে এই বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হয়েছে।
এস এম/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





