গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে জেলার কোনো নদীর পানিই এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবুও নদীর পানি ওঠানামা অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কা বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পাউবোর সন্ধ্যা ৬টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, ঘাঘট নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির উচ্চতা প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জেলার অন্তত ২৫টি স্থানে নদীভাঙন চলছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় নদীভাঙনে প্রায় ৭০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের সহায়তায় ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর, চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি, কাউয়াবাদা ও রতনপুরসুন্দরগঞ্জ উপজেলার কেরানীর চর, কালির খামার ও চর চরিতাবাড়ীপাশাপাশি সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকা।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। নতুন যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে, সেখানেও দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


