গঙ্গা নদীতে আমিষ খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেললে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
বারাণসীতে একটি নৌকায় ইফতার অনুষ্ঠানের সময় গঙ্গায় খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জামিন দিতে গিয়ে আদালত এ মন্তব্য করে।
বিচারপতি রাজীব লোচান শুক্লা বলেন, অভিযুক্তরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এবং তাদের পরিবারও সমাজের বৃহত্তর অংশের কষ্টের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
গত ১৫ মে দেওয়া আদেশে বিচারপতি বলেন, মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্ব অপরাধের রেকর্ড না থাকা, ইতোমধ্যে কারাভোগের সময়কাল এবং তাদের ক্ষমা প্রার্থনা বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে জামিনের উপযুক্ত ভিত্তি রয়েছে।
এ আদেশে অভিযুক্ত মো. আজাদ আলী, মো. তাহসীম, নীহাল আফ্রিদি, মো. তৌসিফ আহমেদ ও মো. আনাস-কে জামিন দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ঘটনাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের একটি ইফতার অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আদালত উল্লেখ করে, ওই ইফতারে অংশগ্রহণকারীরা নন-ভেজ খাবার খাওয়ার পর তার অবশিষ্টাংশ গঙ্গা নদীতে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, আদালতের নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
গত ১৭ মার্চ থেকে কারাগারে থাকা অভিযুক্তরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন।
একই মামলায় ১৫ মে বিচারপতি জিতেন্দ্র কুমার সিনহা আরও তিন অভিযুক্তকে জামিন দেন।
মামলার এজাহার দায়ের হয় ১৬ মার্চ। অভিযোগ করেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা বারাণসী শাখার সভাপতি রজত জয়সওয়াল। তার অভিযোগ ছিল, এ ঘটনায় হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৫ মার্চ গঙ্গায় একটি নৌকায় রমজানের ইফতার করেন অভিযুক্তরা। সেখানে মাংস খাওয়ার পর খাবারের উচ্ছিষ্ট গঙ্গা নদীতে নদীতে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপাসনাস্থল অপবিত্র করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়।
এর আগে ১ এপ্রিল বারাণসীর একটি সেশনস আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে বলেছিল, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়।




