
খুলনা, ১৭ মার্চ – খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কুড় মসজিদটি দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এবং দৃষ্টিনন্দন পুরাকীর্তি।
কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি তার জৌলুস হারাতে বসেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় স্থানীয়রা চাইলেও এর সংস্কারকাজে হাত দিতে পারছেন না। ফলে ক্রমশ বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে মুসলিম ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের স্থাপত্য ইতিহাসের এক অনন্য অংশ এই কুড় মসজিদ।
কপোতাক্ষ নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত এই মসজিদে প্রাচীন আমলের চমৎকার কারুকাজ দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিদিন স্থানীয় এবং দূরদূরান্ত থেকে নানা ধর্মের অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। তবে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য ও স্থানীয়দের বর্ণনানুযায়ী, খান জাহানের সহচর বুড়াখাঁ ও তার পুত্র ফতেখাঁ এই মসজিদের নির্মাতা বলে ধারণা করা হয়।
বর্গাকার এই মসজিদের প্রতিটি পাশের বাইরের মাপ ১৬ দশমিক ৭৬ মিটার এবং ভেতরের মাপ ১২ দশমিক ১৯ মিটার। চার কোণে চারটি গোলাকার মিনার রয়েছে এবং ভেতরের অংশে ইটের বেদির ওপর চারটি পাথরের স্তম্ভ স্থাপিত। মসজিদের বাইরের দেয়ালে পোড়ামাটির চিত্রফলকের সাহায্যে পদ্মফুল, মালা ও ঘণ্টার চমৎকার নকশা করা রয়েছে। এছাড়া দেয়ালে থাকা দুর্লভ আরবি হরফের লেখাগুলো এখন অস্পষ্ট হতে চলেছে।
গত পনেরো বছর ধরে এই মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং জানালার গ্রিলে মরিচা ধরেছে। তিনি আরও জানান, ২০২২ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে কিছু সংস্কার কাজ করা হলেও এর মান নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে চরম অসন্তোষ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান সানা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এই প্রাচীন স্থাপনা দেখতে আসেন।
কিন্তু বর্তমান ভগ্নদশার কারণে অনেক সময় নামাজের মাঝেই মুসল্লিদের গায়ের ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে। ২০১৪ সালে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর ২০২২ সালে যেটুকু কাজ হয়েছে তা একেবারেই দায়সারা গোছের বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকি জানান, ঐতিহাসিক কুড় মসজিদটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রাচীন এই প্রত্নসম্পদ রক্ষায় দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
এ এম/ ১৭ মার্চ ২০২৬





