বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা হল না আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তরেসের গোলের পর সমতায় ফেরার সুযোগ ছিল আলবিসেলেস্তেদের সামনে। জুলিয়ানো সিমিওনের বাড়ানোর বলটি জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন মার্কোস সেনেসি। জানালেন কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধান ছিল বল থেকে, আর সেই আক্ষেপে পুড়ছেন আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার।
বিশ্বকাপ শেষে নিজ শহর কনকর্ডিয়ায় পা রেখেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন সেনেসি। সিটি হলের সামনে হাজার হাজার সমবেত জনতা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। সেখানে সেই সুযোগ হারানো নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই সেন্টার ব্যাক।
বলেছেন, ‘যখন আমি দেখলাম জুলিয়ানো (সিমিওনে) পজিশন নিচ্ছেন, আমার প্রথম উদ্দেশ্যই ছিল সামনে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু তখনই কুবারসি আমার পেছনে একটি অবিশ্বাস্য ট্যাকল করে বসে। আমি দুজন খেলোয়াড়ের মাঝখানে আটকে গিয়েছিলাম। সেই দৃশ্যটা এখনো আমার চোখে ভাসছে, কারণ গোলটি করা থেকে আমি মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার দূরে ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, সেই কয়েক সেন্টিমিটার আজ আমাদের পক্ষে ছিল না।’
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে লিওনার্দো বালের্দির ইনজুরির কারণে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন সেনেসি। সুযোগ পেয়েই জাতীয় দলের রক্ষণে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। সমবেত মানুষের উদ্দেশে আবেগপ্লুত সেনেসি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আপনারা সবাই এখানে এসেছেন বলে আমি ভীষণ খুশি। কখনো ভাবিনি, জীবনে এমন কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হব। নিজ শহরে ফিরে এসে এভাবে মানুষের ভালোবাসা পাওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এখানে আসার জন্য আপনাদের প্রত্যেকের কাছে মন থেকে কৃতজ্ঞ।’
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে কনকর্ডিয়ার কাউন্সিল সেনেসিকে শহরের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছে। কাউন্সিলওম্যান সেলেস্তে ফুসকাডোর নেতৃত্বে ‘অধ্যাদেশ নং ৩৮,৫৩৭’-এর অধীনে সেনেসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সম্মাননা প্রদানকালে কাউন্সিলওম্যান ফুসকাডো বলেন, ‘আজ মার্কোস যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার অনেক আগে থেকেই তাকে চেনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সে একজন অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যে নম্রতা, কঠোর পরিশ্রম এবং একাগ্রতার মতো চমৎকার মূল্যবোধগুলো সবসময় ধারণ করে এসেছে।’




