কয়েক সেকেন্ডের জন্য লিফট ধরতে পারেননি, এতেই বাঁচে জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৮৭ তলায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ৭৯ তলা পর্যন্ত উঠেছিলেন একটি লিফটে। আরেকটি লিফটে করে ওপরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু লিফটি ধরতে পারেননি তিনি। এতেই প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি ২৫ বছর আগে—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের। সেদিন সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

ওপরে যে ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তাঁর নাম এড ফাইন। সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে ফেরার পর তাঁর একটি ছবি ছেপেছিল ফরচুন সাময়িকী। তাতে তাঁকে ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার থেকে একটি ব্রিফকেস হাতে হেঁটে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। পরনের স্যুটটি ছিল ধ্বংসস্তূপের ধুলায় পুরোপুরি ঢাকা। সেই ছবির কারণে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন ফাইন।

১১ সেপ্টেম্বরের ওই হামলা ছিল আধুনিক সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর একটি। সেদিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনেও উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করে হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় ২ হাজার ৯৯৬ জন নিহত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন উড়োজাহাজ ছিনতাইকারী এবং ফায়ার সার্ভিসের শত শত সদস্য ছিলেন।

এড ফাইনের বয়স এখন ৮৩ বছর। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হামলার দিন পরা সেই স্যুট ও ব্রিফকেসটি এখনো রেখে দিয়েছেন তিনি। এমনকি ব্রিফকেসটি এখনো ব্যবহার করেন। এগুলো সংরক্ষণ করার কারণ কী? ফাইনের ভাষায়, ‘যারা হামলা চালিয়েছিল, তাদের একটি বার্তা দেওয়া। বার্তাটি হলো, তারা কখনো জিততে পারবে না।’

সন্ত্রাসী হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এড ফাইন

মিরর–এর কাছে সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন ফাইন। তিনি বলেন, তখন তিনি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ–সংক্রান্ত বিষয়ে ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে তাঁর ছেলের একটি কাজ ছিল। কিন্তু ছেলে অসুস্থ থাকায় তাঁকেই যেতে হয়। সকাল পৌনে আটটার দিকে তিনি পৌঁছান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনে। গন্তব্য ছিল ভবনের ৮৭ তলা।

প্রথমে একটি লিফটে করে ৭৯ তলায় পৌঁছান ফাইন। সেখান থেকে তাঁকে আরেকটি লিফটে ওঠার কথা ছিল। ওই লিফটে ওঠার জন্য তিনি দৌড়ে গিয়েছিলেন; কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের জন্য ধরতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পরেই ভবনের ৯৩ তলা থেকে ৯৯ তলার মাঝামাঝি জায়গায় আছড়ে পড়ে সন্ত্রাসীদের ছিনতাই করা একটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ।

ফাইনের স্ত্রী এখনো বেঁচে আছেন। তাঁর নাম ইনগ্রিড। বয়স ৮৪ বছর। এই দম্পতির দুই সন্তানের নাম স্টুয়ার্ট (৬০) ও হেইডি (৫৭)। ইনগ্রিড বলেন, সন্ত্রাসী হামলার দিন তিনি কয়েক ঘণ্টা ফাইনের কোনো খোঁজখবর পাননি। তিনি বেঁচে আছেন কি না, অনেকক্ষণ জানতেন না। আর ফাইনের ভাষ্য, ‘আমি যদি ওই লিফটে উঠতাম, তাহলে আজ এই কথোপকথন করতে পারতাম না।’

Scroll to Top